দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস হল এক জন ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল। তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা মানেই তৃণমূল। দিদি নিজেও বলেন, ‘২৯৪ টি আসনে আমিই প্রার্থী’। তাঁদের কাছে এও ধারণা, তৃণমূল ছাড়া মানেই মমতাকেও ছেড়ে চলে যাওয়া।
অথচ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছাড়লেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেন ছাড়লেন না। বিধানসভায় দলের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর দেখা গেল মমতার ছবি হাতে বিধানসভা থেকে বেরোচ্ছেন রাজীব। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে বিধানসভার দোতলায় রাজীবের আলাদা অফিস ঘর ছিল। সেখানেই টাঙানো ছিল ছবিটি। বিধানসভা ছাড়ার আগে সেটাই খুলে নেন রাজীব।
দলত্যাগী অভিমানী নেতার এহেন কাণ্ড দেখে তৃণমূলের অনেকেই বিস্মিত। কারণ, তাঁদের কাছেও হয়তো তৃণমূল ছাড়া মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে চলে যাওয়া। তবে এর মধ্যে কোনও বিস্ময় দেখেননি প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেছেন, “রাজীব ব্যানার্জি যেটা করছেন সেটা ড্রামাবাজি। দল ছেড়ে দেবেন, বিধানসভা ছেড়ে দেবেন, অথচ মমতার ছবি নিয়ে যাবেন—এটা হাস্যকর”।
কৌতূহল হতেই পারে রাজীব কেন এটা করলেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজীব ধরা গলায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি সবসময়ের জন্য কৃতজ্ঞ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে গডমাদারের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এতদিন আমি যেখানে বসতাম সেখানে আমার ওপর ছিল। আগামী দিনেও এ ছবি আমার সঙ্গেই থাকবে।" শুধু আজ নয়, এর আগেও একদিন তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি আজীবন শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। মমতার উপর তাঁর অভিমান রয়েছে ঠিকই। কিন্তু রাজনীতিতে তাঁকে সুযোগ দিদিই দিয়েছেন। তবে এ কথা বলার পাশাপাশি তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতার নাম না করে সমালোচনা করতে ছাড়েননি রাজীব। এ বার সম্ভবত তা আরও খোলাখুলি বলবেন।
আবার সৌগত রায়ের বক্তব্যের জবাব রাজীব দেননি ঠিকই, কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা তুল্যমূল্য উত্তর দিতে ছাড়েননি। রাজীব ঘনিষ্ঠ হাওড়ার এক নেতা বলেন, সৌগত রায় এ সব আবেগের মর্ম বুঝবেন না। ইন্দিরা গান্ধীর থেকে টিকিট নিয়ে উনি ভোটে জিতে দেবরাজ আরসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তার পর ইন্দিরাকেই জেলে ভরার কথা বলেছিলেন।
রাজীব ঘনিষ্ঠ ওই নেতার কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠন করলেও প্রয়াত রাজীব গান্ধী সম্পর্কে এখনও শ্রদ্ধাশীল। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন তিনি। একেও কি ড্রামাবাজি বলবেন সৌগত বাবু? এটাও কি তাঁর কাছে হাস্যকর!