দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁর গান ভাইরাল হয়েছে অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল সেই ব্যক্তির। পেশায় সবজি বিক্রেতা এই ব্যক্তির বাড়ি বর্ধমানের ভূতবাগানে। তাঁর হাসিখুশি মুখ দেখে লোকে তাঁর নাম দিয়েছেন সদানন্দ। সদানন্দ সরকার। তবে তাঁর প্রকৃত নাম অন্য।
সদানন্দর গান সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। হাজার হাজার মানুষ সেই ভিডিও দেখেছেন। কৌতূহল প্রকাশ করেছেন গায়কের পরিচয় জানতে চেয়ে। অবশেষে তাঁর সন্ধান পাওয়া গেল কাঞ্চননগর ভূতবাগানে। একটা ভ্যান গাড়িতে আলু বেগুন পটল ঝিঙে প্রভৃতি নানা সব্জি সাজিয়ে তিনি বিক্রি করছেন। তাঁর আসল নাম অঙ্গদ।
লকডাউন আর করোনার আশঙ্কায় অনেকের জীবন থেকে আনন্দ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই নিয়েই গান গাইছিলেন এই স্বভাবকবি। গান যে তাঁর রক্তে। কখনও গাইছেন “হরিবোল মন রসনা, দেশে আইল করোনা/ তাই সবার ভাবনা, কী করি উপায়/ কাজ না করলে পরে, সংসার চলা দায়...।” কখনও তিনি গাইছেন অন্য কোনও গান।
বর্ধমানের কাঞ্চননগরের ভূতবাগানে দু’কামরার ঘরে স্ত্রী-ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন অঙ্গদ সরকার। ভ্যানে আনাজ নিয়ে শহরে ঘুরে বিক্রি করছেন প্রায় কুড়ি বছর ধরে। অভাব থাকলেও বরাবরই পরিবারে গানের চর্চা ছিল। তাঁর ঠাকুরদা আশুতোষ সরকার গাইতেন কবিগান। তাঁর বাবা বাবা অম্বরীশ সরকার গাইতেন ভাটিয়ালি আর বোলান। তাঁর অন্য তিন ভাইও গানের চর্চা করেন।
৪৮ বছরের অঙ্গদ সরকার দিনভর আনাজ বিক্রির পরে বাড়ি ফিরে গান বাঁধেন। কখনও কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে, কখনও বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা নিয়ে, কখনও জল বাঁচানো বা বাল্যবিবাহ রোধের মতো বিষয় নিয়ে গান বেঁধেছেন।
লকডাউন শুরুর পরে বিক্রিবাটা কমেছে বলে জানালেন অঙ্গদবাবু। সম্প্রতি রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি গাইছিলেন — “সরকার করছে ঘোষণা, ঘরের বাইরে কেউ বার হবেন না/ পেটটা তো আর শোনে না…।” তা রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন সমরকুমার মোদক নামে এক ক্রেতা। সেই গান শুনেই লোকে তাঁর পরিচয় জানতে চাইছিল।
পূর্ব বর্ধমানের তথ্য-সংস্কৃতি দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাউল শিল্পী হিসাবে ভাতা পান অঙ্গদবাবু। দফতরের জেলা আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী বলেন, “উনি যাতে দু’মাসের ভাতা একেবারে পান তা দেখা হচ্ছে।’’
গায়ক হিসাবে আলাদা কোনও স্বীকৃতি তিনি চান না। চান না খ্যাতিও। থাকেন অনটন নিয়ে মাটির কাছাকাছি। তাই দৈনন্দিন টানাপোড়েনের কথাই উঠে আসে তাঁর গানে। তিনি চান খুব তাড়াতাড়ি এই কষ্টের দিন কেটে যাক। ফিরে আসুক আনন্দ। তার আগে এই যে লোকে তার গান শুনছে এটাই তাঁকে তৃপ্তি দিচ্ছে।