চার বছরের মেয়ের সামনে স্ত্রী ও শ্বশুরকে খুন সুভাষগ্রামে, গ্রেফতার অভিযুক্ত, উদ্ধার খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুভাষগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। রবিবার উদ্ধার হয়েছে খুন ব্যবহৃত অস্ত্রও। পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত রমেশ পণ্ডিতের দেখানো জায়গা থেকেই উদ্ধার হয়েছে এই অস্ত্র। রাজপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত
শেষ আপডেট: 2 August 2020 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুভাষগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। রবিবার উদ্ধার হয়েছে খুন ব্যবহৃত অস্ত্রও। পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত রমেশ পণ্ডিতের দেখানো জায়গা থেকেই উদ্ধার হয়েছে এই অস্ত্র। রাজপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে খুন ব্যবহৃত অস্ত্র। ধৃতকে আজ বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তার পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ১১ জুলাই সুভাষগ্রামে নিজের শ্বশুরবাড়িতেই স্ত্রী এবং শ্বশুরকে খুন করেছিল রমেশ। পুলিশ সূত্রে খবর, রমেশের শ্বশুর বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায় কলেজ স্ট্রিটে একটি নামি প্রকাশনা সংস্থায় বই বাঁধানোর কাজ করতেন তিনি। ৭৬ বছরের বাসুদেববাবু অবিবাহিতা ছিলেন। সুমিতা তাঁর দত্তক নেওয়া মেয়ে। বছর পাঁচেক আগে কলকাতার তিলজলার বাসিন্দা রমেশের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন তিনি।

পুলিশের দাবি, জেরায় রমেশ জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে সদ্ভাব ছিল না তার। কয়েকদিন ধরে সুমিতা তাকে এড়িয়ে চলছিল। রমেশের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলাও চলছিল। সেই সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাও করেছিলেন সুমিতা। অন্যদিকে বাসুদেববাবুও ঠিক করেছিলেন মেয়ে আর নাতনিকে নিয়ে কলকাতায় গিয়ে থাকবেন। এই পরিকল্পনা জানার পর থেকেই শ্বশুর এবং স্ত্রীকে খুনের ছক কষছিল রমেশ।
গত কয়েক মাস ধরে বাপের বাড়িতেই ছিলেন সুমিতা। সম্প্রতি তাঁর মেয়েকে বিড়াল আঁচড়ে দেয়। সেই খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ি আসে রমেশ। সুভাষগ্রাম স্টেশনের কাছেই সুকান্ত সরণিতে থাকতেন বাসুদেববাবু। রমেশের কথায়, তার সঙ্গে ঘটনার দিন চরম দুর্ব্যবহার করেন তার স্ত্রী এবং শ্বশুর। ১১ জুলাই রাতে দু'জনের সঙ্গেই তুমুল ঝগড়া-অশান্তি হয় রমেশের। এরপরেই ভারী কিছু জিনিস দিয়ে সুমিতা এবং বাসুদেববাবুকে আঘাত করে রমেশ। তারপর চার বছরের মেয়ের সামনেই স্ত্রী এবং শ্বশুরকে কুপিয়ে খুন করে সে।
ঘটনার বেশ কিছুদিন পর হাওড়া জেলার লিলুয়াতে বেলগাছিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত রমেশকে। আজ রবিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সোনারপুর থানার পুলিশ। সেই সঙ্গে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করেছে তারা।