দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে লকডাউনে সমস্যায় পড়েছেন এ রাজ্যের তাঁতিরা। রাজ্যে সরকারি ভাবে নথিভুক্ত তাঁতি বা তন্তুবায়দের সংখ্যা সাড়ে ছ’লক্ষ।
এ রাজ্যের মধ্যে নদিয়া জেলার শান্তিপুর, ফুলিয়া, বেথুয়াডহরি, চাকদহ, হবিবপুর প্রভৃতি এলাকায় বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ তন্তুজীবী রয়েছেন। জেলায় হাতে টানা তাঁত বা হ্যান্ডলুম রয়েছে ও যন্ত্রচালিত তাঁত বা পাওয়ার লুমের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত। তাঁতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লুমের মালিক, সুতোর ব্যবসায়ী, শাড়ির ব্যবসায়ী-সহ আরও অনেকে। মোটামুটি ভাবে দেখা যায় যে জেলায় তাঁতিদের যত পরিবার রয়েছে প্রতিটি পরিবারেরই জনা তিনেক করে সদস্য এই পেশার সঙ্গে জড়িত। এই সমস্ত তন্তুজীবীদের বড় অংশ ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ পরিবার।
মহাজনদের অধিকাংশই এই সমস্ত দরিদ্র পরিবারকে দিয়ে তাঁতের কাজ করান। এঁদের কেউ হাতে টানা তাঁতে শাড়ি বোনেন, কেউ আবার পাওয়ার লুম চালান। এই জেলায় অনেকে সুতো কেটে নলি পাকিয়ে রোজগার করেন। সারা ভারতে যত সুতির তাঁতের শাড়ি তৈরি হয়, জেলা হিসাবে সেই তালিকায় একেবারে উপরের দিকে রয়েছে নদিয়া।
দেশ জুড়ে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে এই শিল্প মন্থর গতির হয়ে যায়। এবারে তাকে ছাপিয়ে গেছে লকডাউন। টানা তের দিন ধরে বন্ধ এখানকার অধিকাংশ তাঁত। যেখানে যেটুকু চলছে সেখানে আবার চিন্তা উৎপাদিত শাড়ি কী ভাবে তাঁরা বিক্রি করবেন। যন্ত্র চালু রাখতে হলে উৎপাদন চালিয়ে যেতেই হবে কিন্তু বিক্রি করার উপায় নেই। এদিকে পাওয়ার লুম চালালে আবার বিদ্যুতের খরচও বহন করতে হয়।
মহাজনদের অধীনে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না। মহাজন কবে মজুরি দেবেন সেকথা জানেন না তাঁত-শ্রমিকরা। শাড়ি পিছু এখানে প্রত্যেক তাঁতির আয় একশো থেকে দেড়শো টাকা। এখন শাড়ি বোনা যত দিন বন্ধ থাকবে রোজগারও তত দিন কার্যত বন্ধ।
তন্তুজের চেয়ারম্যান তথা শান্তিপুর পুরসভার প্রধান অজয় দে বলেন, “সারা রাজ্যে সাড়ে ছ’লাখ মত তন্তুজীবী রয়েছেন। তার মধ্যে নবদ্বীপ, শান্তিপুর, ফুলিয়া, চাকদহ এবং এইসব এলাকার আশপাশে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত।” তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে এই সমস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়। যাঁরা দক্ষ কারিগর তাঁদের দৈনিক তিনশো টাকা করে এবং যাঁরা অদক্ষ কারিগর তাঁদের দৈনিক ২০০ টাকা করে দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।
পাওয়ার লুম মালিকরা জানিয়েছেন যে বিদ্যুতের বিল তাঁরা আগামী দিনে কী ভাবে দেবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। বিদ্যুৎ ছাড়া পাওয়ার লুম অচল। তাঁরা চাইছেন সরকার তাঁদের দিকটিও দেখুক।