বিমানবন্দরে সোনা কাণ্ড: আদালতে অভিষেকের শালির আবেদন, ‘প্লিজ আমায় যেন না ডাকে!’
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানবন্দরে সোনাকাণ্ড মামলার শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টে আবেদন জানালেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকা মানেকা গম্ভীর। অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলার সঙ্গে ১৫-১৬ মার্চের মাঝের রাতে বিমানবন্দরে ছিলেন মানেকা।
শেষ আপডেট: 19 June 2019 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানবন্দরে সোনাকাণ্ড মামলার শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টে আবেদন জানালেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকা মানেকা গম্ভীর। অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলার সঙ্গে ১৫-১৬ মার্চের মাঝের রাতে বিমানবন্দরে ছিলেন মানেকা। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে রুজিরার বোন আবেদন জানান, তাঁকে এখনও সমন পাঠায়নি কাস্টমস। কিন্তু পাঠাতে পারে। তাই তাঁকেও একটা অর্ডার দিক আদালত। মানেকার আবেদন গ্রহণ করে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেমন রুজিরাকে ডাকাডাকি করতে পারবে না কাস্টমস, একই ভাবে ডাকতে পারবে না মানেকাকেও।
এ দিন কাস্টমসের আইনজীবী হাইকোর্টে বলেন, ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা রুজু হয়েছে। শুনানিও হয়েছে। কাস্টমসের আইনজীবীকে হাইকোর্ট বলে, সেই মামলা যেমন হচ্ছে হোক। এটাও সমান্তরাল ভাবে চলবে। পরবর্তী শুনানি হবে ২২ জুলাই। এর মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্ট কিছু বলে, তাহলে সেটা হাইকোর্টকে জানানো হোক।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ রাতে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা ব্যাঙ্কক থেকে ফেরার সময়ে তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন শুল্ক দফতরের কর্তারা। তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। শুল্ক দফতরের কর্তাদের অভিযোগ, রুজিরা তাঁর স্বামী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন। তার পরে রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী এসে শুল্ক দফতরের কাজে বাধা দেয়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। এবং প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ একবার বলেছিলেন, “বাংলায় গুরুতর কিছু হচ্ছে। আমাদের গভীরে গিয়ে দেখতে হবে।”
রুজিরা একজন থাই নাগরিক। ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে তিনি ব্যাঙ্কক থেকে থাই এয়ারওয়েজের বিমান কলকাতায় ফেরেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেনেকা। এবং দু’জনের কাছে মোট সাতটি ব্যাগ ছিল বলে অভিযোগ। গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় শুল্ক দফতরের কর্তারা তাঁদের দু’টি ব্যাগ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্ক্যান করতে চান।
এ নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীদের অনেকে অভিযোগ তোলে, ব্যাগে সোনা নিয়ে আসছিলেন অভিষেক-পত্নী। অভিষেক চ্যালেঞ্জ করে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার। ভোটের শেষ পর্বের প্রচারে ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে এ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বলেছিলেন, “অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাগে ছিল দুটো বালা, তাই নিয়েও মোদীর এত জ্বালা।” তার আগে মেটিয়া বুরুজের সভা থেকে বলেছিলেন, “ওরা অভিষেককেও ছাড়ছে না। ওঁর ছোট্ট বউটাকেও ছাড়ছে না!”
তবে এই মামলা কোন দিকে এগোয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।