দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: মাসখানেক আগে সিএএ বিরোধী নাগরিকমঞ্চের ডাকা বনধ্ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি। এলোপাথাড়িগুলিতে প্রাণ গিয়েছিল দুই গ্রামবাসীর। ওই ঘটনার পর রবিবার সেখানে সভা করলেন রাজ্যের পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূলের তরফে মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষকও বটে। এদিন জলঙ্গির মহাবিদ্যালয় মাঠে সভা করে নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি ছেড়ে আপনারা এগিয়ে আসুন। আমরা সমস্ত সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
এদিন শুভেন্দু বলেন, “এখানে সিপিএম-কংগ্রেসের নামে লোক হচ্ছে না। তাই ওরা নাগরিকমঞ্চের নামে এসব অরজকতা চালাচ্ছে।” নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে নন্দীগ্রামের বিধায়কের বার্তা, “চাকরি দিয়ে, পয়সা দিয়ে মানুষের জীবনের ক্ষতি পূরণ করা যায় না। কিন্তু তাও আমরা প্রস্তুত। আপনারা এগিয়ে আসুন। সিপিএম-কংগ্রেসের লিখে দেওয়া এফআইরে সই করে রাজনীতি করলে তা হবে না।”
ওই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত জলঙ্গি উত্তর তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাহেরউদ্দিন মণ্ডল। গতকাল তাঁর ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিন শুভেন্দুকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, তাহেরউদ্দিনের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা হবে না? মন্ত্রীর স্পষ্ট জবাব, “সিপিএম-কংগ্রেসের কথায় তাহেরউদ্দিনের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব না। দলীয় গাইডলাইন অনুযায়ী যা করার করব। কিন্তু সিপিএম-কংগ্রেসের কাছে নতি স্বীকার করব না।”
এদিন শুভেন্দুর সভায় প্রায় আট হাজার লোক হয়েছিল। শাসকদলের তরুণ এই নেতা বলেন, “সিপিএমের জমানায় তপন-সুকুর বা লক্ষ্মণ শেঠকে গ্রেফতার করা হয়নি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় আইন আইনের পথে চলে।” তিনি আরও বলেন, “সিএএ, এনআরস্যার বিরুদ্ধে বিজেপি-কে ঠেকাতে হলে একমাত্র মমতা বন্ড্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলই পারবে। এই লড়াইয়ে সিপিএম, কংগ্রেসের কোনও জায়গা নেই।”