দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদানীং প্রতিটা সভাতে গিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুষ্টু গরু, হাম্বা, মীরজাফরের কথা বলছেন। বলছেন, বিশ্বাসঘাতকরা চলে গেছে। পাপ বিদেয় হয়েছে।
বুধবার পলতায় জনসভা শেষ করে তার কড়ায়গণ্ডায় জবাব দিতে চাইলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মঞ্চে ছিলেন তৃণমূলের আরও দুই প্রাক্তন। অধুনা ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং।
শুভেন্দু এদিন বলেন, রাজনৈতিক ভাবে অজ্ঞাতপরিচয় একজন মহিলাকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছিলেন রাজীব গান্ধী। কংগ্রেস থেকে চার বার সাংসদ হয়েছেন। কেন্দ্রে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী করা হয়েছিল তাঁকে। তার পর ৯৮ সালে সেই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কে করেছিলেন?
শুভেন্দুর কথায়, “তার পর ৯৮ সালে এই বহিরাগত বিজেপি আপনাকে আশ্রয় দিল। তাদের সমর্থন নিয়ে তিন বার সাংসদ হলেন—৯৮, ৯৯, ২০০৪। তার মাঝে মওকা বুঝে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলেন। কিন্তু হেরে গেলেন। তার পর পায়ে ধরে ফের কয়লা মন্ত্রী হলেন”। কিন্তু সেই দলের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।
আঙুলের কড় গুণতে গুণতে এর পর শুভেন্দু বলেন, তা হলে কত বার হল? তিন বার। এর পর ২০০৯ সালে ও ২০১১ সালে মনমোহন সিং-সনিয়া গান্ধীকে নিয়ে ঘুরলেন। বললেন, বদলা নয় বদল চাই। তার পর তাঁদের সমর্থনে ভোটে যেই না একবার জিতে গেলেন, তার পরই ধোঁকা দিলেন। ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেন। সেটা বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না?
শুভেন্দু মঞ্চ থেকে নামার পর এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, কিন্তু ৯৮ সালে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়েছিলেন? জবাবে শুভেন্দু বলেন, “তাই নাকি? উনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। তা হতে পারেননি। তাই ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খার জন্য কংগ্রেস ছাড়েন।”

শুভেন্দু এও বলেন, “সিপিএমকে কি তিনি একার ক্ষমতায় পরাস্ত করতে পেরেছিলেন? সেই কংগ্রেসেরই তো সাহায্য নিতে হয়েছিল। তা হলে কংগ্রেস ভাঙার যুক্তি কি খাটে?”
সেদিন কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া যে পরিবর্তন সম্ভব ছিল না তা আগেও খোলাখুলি স্বীকার করতেন মুকুল রায়, এখনও করেন।
মঙ্গলবার কালনা ও মুর্শিদাবাদের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কত গুলো গরু হাম্বা হাম্বা করতে করতে চলে গেছে। যারা গেছে তারা দুর্নীতিপরায়ণ। তাতে দলের ভাল হয়েছে।
এদিন শুভেন্দু বলেন, যারা চলে গেছে, তারা যদি পচা মাল হয়, তা হলে বিধানসভার বারান্দায় কেন বিশ্বজিৎকে ডেকে বলেছিলেন, কী রে কোনও ডিসিশন নিলি?
মঞ্চে তৃণমূল ত্যাগী বিধায়কের দিকে তাকিয়ে শুভেন্দু এও বলেন, কেন না চাইতে সুনীল সিংয়ের বাড়িতে সিকিউরিটি পাঠিয়েছিলেন। পচা মালদের আবার ডাকছেন কেন?
শুভেন্দু এদিন বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল, ভাইপোকে নেতা মানতে। কিন্তু ভাইপোকে নেতা মানব কেন? কবে ছাত্র রাজনীতি করেছে? কবে যুব রাজনীতি করেছে? ২০১১ সালে সোনার চামচ নিয়ে যুবার সভাপতি হয়েছে।
পলতায় এদিন রোড শোতে ভিড় ভালই ছিল। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির সব নেতারা কর্মসূচিতে ছিলেন। তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে, খুব শিগগির এর পাল্টা রোড শো করবে তৃণমূল।