দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপ্রসন্ন সিংহর ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ কি নতুন করে পড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী!
শব্দ ও বাংলা প্রবাদকে তিনি ইদানীং চোখা রাজনৈতিক আক্রমণে ব্যবহার করছেন, তা দেখে অনেকেরই মনে এ প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে।
বুধবার বিকেলে তিনি চন্দননগরে পদযাত্রা করেন। তার পর সন্ধ্যায় মানকুণ্ডুর সার্কাস মাঠে সভায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখানকার বিধায়ক কেমন বলুন তো’! সমস্বরে প্রশ্ন ওঠে, কেমন কেমন? শুভেন্দু বলেন, “উনি জলের মতো! বাটিতে রাখলে বাটি, ঘটিতে রাখলে ঘটি! আমরা যখন নন্দীগ্রামে আন্দোলনের করছি তখন ইনি ছিলেন বুদ্ধবাবুদের পিছনে”।
এর পরই নাম না করে চন্দননগরের বিধায়ক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভায় প্রতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু।
তিনি বলেন, "রাজ্যে অনেক ধরনের কাটমানি চলে। এখানকার বিধায়ক আবার অন্য ধরনের কাটমানি খান। কেমন জানেন?" ফের জনতার চিত্কার ভেসে আসে, কেমন কেমন?
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা বলেন, "এখানকার বিধায়ক গায়ক-গায়িকাদের থেকে কাটমানি খান। সঙ্গীত মেলার নামে! আমায় অনেক গায়ক-গায়িকা বলেছেন। সরকার থেকে উঠছে এক আর তাঁরা পাচ্ছেন আর এক!"
ইন্দ্রনীল একটা সময়ে সিপিএমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। নন্দীগ্রামে হত্যাকাণ্ডের পরেও খোলা চিঠি লিখে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সমর্থন করতে বলেছিলেন। এমনকি পরিবর্তনের পরেও সিপিএমের মুখপত্রর প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে গানও গেয়েছিলেন।
ষোলর ভোটে অল্প ব্যবধানে চন্দননগরে জিতেছিল তৃণমূল। এদিন ঠাসা ভিড় ছিল বিজেপির মিছিল ও সভায়। শুভেন্দু বলেন, "আরামবাগে চুরি করে জিতেছে তৃণমূল। হুগলি আপনারা সাফ করে দিয়েছেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে শ্রীরামপুর লোকসভাও ভোকাট্টা হয়ে যেত”। তাঁর কথায়, “দেখছি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও বেসুরো গাইছেন। উত্তরপাড়াও মাইনাস। কারণ প্রবীর ঘোষালও সুরে গাইছেন না। চাঁপদানিও জিতব। হুগলিতে ১৮-০ করতে হবে।"
কয়লা ও গরু পাচার তদন্তে দুদিন আগেই সিবিআই জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন চন্দননগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তথাগত বসু। এদিন শুভেন্দু বলেন, "গোটা চন্দননগর কমিশনারেট সিবিআই অফিসে লাইন দিয়েছে। একের পর এক নেমন্তন্ন আসছে। দেখতে থাকুন না কী হয়!"
গত কয়েক বছরে একাধিকবার গোষ্ঠী সংঘর্ষ বিরাট আকার নিয়েছে চন্দননগর বিধানসভা এলাকায়। কড়া লকডাউনে তেলিনিপাড়ায় এমন পরিস্থতি হয়েছিল যে শ্রীরামপুর মহকুমার বড় অংশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অনেকের মতে, এমনিতেই চন্দননগর বিধানসভায় মেরুকরণের প্রেক্ষাপট তৈরি রয়েছে। শুভেন্দুও এদিন সেটাকে আরও কিছুটা চড়া দাগে তুলে দেন এদিন। ভোটে পুরো মেরুকরণ ঘটানোর কথা বলেন।
তবে এখন দেখার চন্দননগরের বিধায়ক কী বলেন।