দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের ত্রাণ, ক্ষতিপূরণ নিয়ে নিয়ে গ্রামে গ্রামে চূড়ান্ত অনিয়ম হচ্ছে বলে ঝড়ের পর থেকেই অভিযোগ করছিলেন বিরোধীরা। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তা নিয়ে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন দিলীপ ঘোষ, সুজন চক্রবর্তীরা। বৈঠক শেষে নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "ত্রাণ নিয়ে কোনও দলবাজিতে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমি প্রশাসনকে বলেছি যে-ই হোক অন্যায় করলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।"
এদিন.মমতা বলেন, "আজকের বৈঠকে সবাই প্রায় উমফানের ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। আমি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যবস্থা নিয়েছি। পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, কোনও অনিয়ম চলবে না।" ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিডিও, ডিএমদের দেখতে হবে, সত্যিই যাঁদের ক্ষতি হয়েছে তাঁরাই যেন পান। অনেক জেনুইন কেশ অনেক সময় বাদ চলে যায়। সেটা যেন না হয়।
তবে বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দয়া করে বিক্ষোভের নামে বিডিও অফিস ঘভাঙচুর করবেন না। মনে রাখবেন ওগুলো জনগণের সম্পত্তি।"
উমফানের ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতারা বিস্তর নয়ছয় করছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তার বিরুদ্ধে ক্ষোভও ব্যাপক। দু'দিন আগেই দেগঙ্গায় রাতভর বিক্ষোভ চলে। বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। এদিন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতেও বিডিও অফিস ঘেরাও নিয়ে সিপিএমের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল ধস্তাধস্তি হয়।
এদিন.সর্বদলীয় বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, "আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি মুখে যা বলছেন সেটা যেন কাজে দেখা যায়। নাহলে মানুষের বিক্ষোভ থামবে না।"
বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "আমরা বলেছি, গঠনমূলক কাজ করলে.সরকারকে সাহায্য করব। কিন্তু গরিব মানুষের টাকা যদি তৃণমূলের নেতাদেরকে পকেটে যায়, চাল-ডাল যদি.লুঠ হয় তাহলে আন্দোলনও হবে।"
গতকালই দেখা গিয়েছিল ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে রাস্তার মাঝখানে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
উমফান বিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠন নিয়ে বিরোধী নেতাদের নিয়ে একটি কমিটিও গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে রয়েছেন বিজেপির দিলীপ ঘোষ, সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁরা আলোচনা করে সরকারকে প্রস্তাব দেবেন। তারপর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলে ঠিক হয়েছে।