দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মাস আগেই প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনে বসেছিলেন রাজ্যের হবু শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি ছিল, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পাননি তাঁরা। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে রয়েছে নিয়োগ। তার কয়েক মাস পরেই ফের অনশনে বসলেন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি, সর্বভারতীয় মাপকাঠিতে ন্যায্য বেতন চান তাঁরা। বুধবার এই আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন।
এ বার অনশনকারী প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড়ালেন কবি শঙ্খ ঘোষ। বর্ষীয়ান কবি অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। তাই নিজে অনশন স্থলে যেতে পারেননি। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই কয়েকজন অনশনকারীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দেন।

শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন, ন্যায্য দাবি নিয়েই সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের মৌখিল প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করতে চাননি বা পারেননি সরকারপক্ষ। এটা দুর্ভাগ্যের যে অন্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা কম বেতন পান। সেই সমস্যার সুরাহা না হওয়াতেই আজ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন তাঁরা। চোখের সামনে এ রাজ্যে এমনটা হচ্ছে এটা লজ্জার। গত পাঁচদিন ধরে অনশন করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ১৮ জন ইতিমধ্যেই আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসব দেখেটাও বড় অসহায় ব্যাপার। তবে এটাই আশা যে আগামী দিনে হয়তো সরকারপক্ষ এই সমস্যার সমাধান করবেন।
কবির মতো একই মত অনশনকারীদেরও। এ বার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তাঁরা। অনশনকারীদের অভিযোগ, "বহুবার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। উনি কিছুই ব্যবস্থা করেননি। তাই এ বার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।" এ দিকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, “ওদের বহু বার বোঝানো হয়েছে। আমি নিজে একাধিক বার কথা বলেছি। ওদের দাবি অন্যায্য, এ ভাবে গ্রেড পে বাড়ানো যায় না। কিন্তু ওরা না বুঝলে আমার কিছুই করার নেই। এর পরেও ওরা বসে থাকলে, বসে থাক।” সব মিলিয়ে অবস্থা একেবারেই টালমাটাল।

বর্তমানে সারা দেশের প্রতিটি রাজ্যে গ্রেড পে ৪২০০ টাকা, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকেরা পান ২৬০০। শুধু তাই নয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার কারণে ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বহু দূরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
বর্ষার কোনও লক্ষণ নেই এখনও। ভ্যাপসা গরমে দমবন্ধ অবস্থা। এর মধ্যেই আজকে নিয়ে ৬ দিন ধরে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ৬ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে ত্রিপল টাঙিয়ে পথে বসে আছেন ঠায়। তাঁদের মধ্যে ২০ জন অনশন শুরু করেছেন ৫ দিন হল। দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনশনকারীর সংখ্যা এখন ১৮। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন শিক্ষিকাও। আন্দোলনকারীদের দাবি, "আমরা তো হঠাৎ করে এবং অকারণে আমাদের বেতন বাড়ানোর দাবি করিনি। আত্মসম্মানের অধিকার চেয়েছি। সুরাহা না পেলে নড়ব না। তবে আমরা আশাবাদী, সরকার তার মানবিক মুখ দেখাবে।”