দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোল পুরসভার মাঠে বুধবার সন্ধ্যায় একটি বহুজাতিক সংস্থার সৌজন্যে গানের আসর বসার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে গান গাইতে মুম্বই থেকে এসেছিলেন গায়ক শান এবং কে কে।
কিন্তু বিকেলে আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয় অভিযোগ করলেন, দুপুরে হোটেলে যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শান, তখন আচমকাই তাঁর ঘরে হানা দেয় আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ। শান-কে তাঁরা হুমকি দেন, এই অনুষ্ঠানে বাবুল সুপ্রিয় যদি সামিল হন, তা হলে অনুষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। আসানসোলের সাংসদ জানান, “মিস্টার মুখোপাধ্যায় নামে আসানসোল পুলিশের এক কর্তা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।”
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1047475406402740230
বাবুল সুপ্রিয় দাবি করেন, এ ঘটনার পর পরই শান তাঁকে ফোন করে সবিস্তার তা জানান। তিনি শানকে পরামর্শ দিয়েছেন, এ ধরনের জঘন্য ব্যাপার এড়িয়ে চলতে এবং কোনও রকম ফোন না ধরতে। তাঁর কথায়, “শান আমার পরম বন্ধু। কে কে-ও আমার বন্ধু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুলিশ ওঁদের অনুষ্ঠান বানচাল করে দেবে তা হতে দেব না।” বাবুল জানান, তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না, তবে এ ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন।
বাবুল না গেলেও এ দিন আসানসোলের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বাবুলের বক্তব্য, সম্ভবত এই কারণেই ওঁরা চাননি আমি অনুষ্ঠানে সামিল হই।
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1047486369038196736
বাবুল সুপ্রিয় এই অভিযোগ জানালেও এ ব্যাপারে গায়ক শান বা কে কে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে বাবুল জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে এ ঘটনা নিয়ে যতদূর যাওয়ার প্রয়োজন তা যাবেন। দরকার হলে আদালতে মামলাও করবেন।
আসানসোলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুধু ,নয় সামগ্রিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সঙ্গে বাবুলের এখন আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। এক সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে উঠে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন বাবুল। কিন্তু সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক দিন আগেই উবে গিয়েছে। বরং পারস্পরিক সম্পর্কে এখন ঝালই বেশি। সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় বাবুল অভিযোগ করেছেন, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সাংসদ হলেও তাঁর এলাকায় রাজ্য সরকারের কোনও অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ করা হয় না। বর্ধমান জেলা ভাগের অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল নাম কে ওয়াস্তে।
যদিও বাবুলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আসানসোল পুলিশ। কমিশনারেটের এক কর্তার দাবি, “শানের ঘরে কোনও পুলিশ আধিকারিক যাননি।” তিনি আরও বলেন, “বাবুল পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি তাঁর বন্ধুর অনুষ্ঠানে যেতে চান। কিন্তু আমরা বলেছি, জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাওয়া একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা এত কম সময়ের নোটিসে করা সম্ভব নয়।”
তৃণমূলের এক মুখপাত্র অবশ্য বলেন, বাবুলের সবটাই অতিনাটকীয়। তিনি হয়তো ভাবছেন, রাজনীতিটাও বলিউডের সিনেমার মতো। তাই যেন তেন প্রকারে প্রচারের আলোয় থাকতেই এ সব করেন।