দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির কয়েকজন সদস্য করোনায়া আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড টেস্ট হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিয়েছেন আক্রান্তরা। কিন্তু এর মধ্যেই অঘটন ঘটেছে ওই পরিবারে। ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে বাড়ির উঠোনে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা। বাড়ির বাকি সদস্যদের সকলেই প্রবীণ। তাঁদের পক্ষে ভারী শরীরের বৃদ্ধাকে মাটি থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। সাহায্যের জন্য প্রতিবেশীদের সাহায্য চেয়েছিলেন সকলে। কার্যত কাকুতি-মিনতি করে পায়ে ধরতে বাকি রেখেছিলেন তাঁরা।
কিন্তু এত অনুরোধেও লাভ হয়নি। ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখাননি প্রতিবেশীদের কেউ। প্রায় ১২ ঘণ্টা মাটিতেই পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা। তাঁকে তুলতে আসেননি কেউ। এমনকি শান্তিপুর হাসপাতালে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত শান্তিপুর থানার তরফে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। আর ওই বাড়িতে আসেন শান্তিপুর করোনা প্রতিরোধ মঞ্চের সদস্যরা। তাঁরাই ওই বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। মাটি থেকে তাঁরাই তোলেন বৃদ্ধাকে।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার পটেশ্বরী স্ট্রিট এলাকার গাঙ্গুলি বাড়িতে। গতকাল ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে উঠোনের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে যান বাড়ির অন্যতম প্রবীণ সদস্য সাধনা গাঙ্গুলি। ৭০ ছুঁইছুঁই বৃদ্ধাকে তুলসীতলা থেকে তুলে ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি বাড়ির বাকিরা। কারণ তাঁদের সকলের বয়স হয়েছে ভাল। এদিকে সাহায্যের জন্য ডেকে পাঠালেও পাড়ার একজনও ওই বাড়ির চৌকাঠ পেরোননি। কারণ এই বাড়িরই এক সদস্য শিপ্রা ভট্টাচার্য কদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে কৃষ্ণনগর কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাই প্রশাসন যতই বার্তা দিক যে রোগী নয় রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, এলাকাবাসী সে সবে পাত্তা দেননি। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এই পরিবারকে কার্যত একঘরে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য শান্তিপুর থানা এবং করোনা প্রতিরোধ মঞ্চের সদস্যদের সাহায্যে বৃদ্ধাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে।