দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের খরচ বাঁচিয়ে এলাকায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনের পাশে দাঁড়ালেন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ৩ নম্বর ব্লকের নাচিন্দা এলাকার শিক্ষক মানিকবরণ পাত্র। সাময়িক ভাবে বাড়ি মেরামতের জন্য আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি তিনি তাঁদের খাদ্য সামগ্রী দান করেছেন।
করোনার সংক্রমণ রুখতে দেশজোড়া লকডাউনে বিপর্যস্ত মানুষজন। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। তার উপরে ঘুর্ণীঝড় উমফানে তছনছ হয়ে গেছে বহু ঘর-বাড়ি। জেলার বহু গরিব পরিবার এখন সঙ্কটে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরহারা ও নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ালেন শিক্ষক মানিকবরণ পাত্র।
গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ত্রাণ ও পরিষেবা দিতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ব্যক্তিগত ভাবেও অনেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন উৎসব ও অনুষ্ঠান করার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় বাবার বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের খরচ বাঁচিয়ে ঝড়ে বিধ্বস্ত আর্তদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষক।
এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, মানিকবরণের বাবা রামরতন পাত্র ছিলেন নাচিন্দা জীবনকৃষ্ণ হাইস্কুলের শিক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমী। গত বছর ৩১ মে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। এদিন ছিল বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। মানিকবরণ তাঁর একমাত্র ছেলে। তিনি তমলুকের রাধাবল্লভপুর হাইস্কুলের শিক্ষক। নিয়মরক্ষার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান তিনি করেছেন। শ্রাদ্ধে যে টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল তার দ্বিগুণ অঙ্কের টাকা খরচ করে উমফান ঝড়ে ও করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউনে বিধ্বস্ত এলাকায় দুশোটির বেশি পরিবারের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন। সাহায্য হিসাবে তুলে দিয়েছেন চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন, বিস্কুট, সাবান ও মিষ্টি। তাঁদের হাতে কিছু নগদ টাকাও দিয়েছেন।
অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাড়িতে থেকে ত্রাণের প্যাকেট সকলের হাতে হাতে তুলে দেন। মানিকবাবু বলেন, “বাবা ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও প্রকৃতিপ্রেমী। বরাবরই তিনি নিয়োজিত থাকতেন জনসেবায়। সংবাদমাধ্যমে দানধ্যানের খবর দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি দুঃস্থ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছি।”