দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশ ঘণ্টা কাটেনি পুলওয়ামার ভয়াবহ জঙ্গি হামলার। এর মধ্যেই বাংলার মন্ত্রী তথা মানিকতলার তৃণমূল বিধায়ক সাধন পাণ্ডে বাতলে দিলেন কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের উপায়। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ স্পষ্ট জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন, সে ভাবেই কাশ্মীর সমস্যাকেও আলোচনার টেবিলে সমাধান করতে হবে। তাঁর কথায়, “বন্দুক দিয়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আবার একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে হয়তো মানুষকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হবে। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ ঠিক নয়।”
শুক্রবার সকালে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে উপভোক্তা বিষয়ক একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন সাধনবাবু। সেখানে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উচিত সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে পরামর্শ করে আশু সমস্যার সমাধান করা।” লোকসভা ভোটের আগে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু না করাই উচিত বলে মনে করেন দীর্ঘদিনের এই বিধায়ক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পরই জঙ্গলমহলকে শান্ত করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়েছিলেন। পুলিশি অভিযান এবং সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে পৌঁছনোর সমান্তরাল কর্মসূচি নিয়েছিলেন দিদি। তাতে ফলও মিলেছিল। সুচিত্রা মাহাতোদের মতো মাওবাদী অ্যাকশন স্কোয়াডের সদস্যরা ‘সন্ত্রাসের জনযুদ্ধ থেকে গণতন্ত্রের লংমার্চ’-এ ফিরেছিলেন।
গত নভেম্বর ডিসেম্বরে যখন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলছিল তখনও বারবার করে উগ্রবাম শক্তি আলোচনায় উঠে এসেছিল। সেই সময় নির্বাচন ছিল ছতীসগড়ের মতো মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যে। বাংলা থেকে বিজেপি-কে আক্রমণ করে সেই সময় মমতা বলেছিলেন, “ওদের তো শুধু মুখে বড় বড় কথা। মাওবাদীদের কন্ট্রোল করতে পারেনি। আমরা এসেই এক বছরের মধ্য সব ঠাণ্ডা করে দিয়েছিলাম।” এ বার কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জঙ্গলমহলকেই মডেল করতে চাইলেন মমতার মন্ত্রিসভার সদস্য।