দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: নাবালক-নাবালিকার প্রেমের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ। ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধান চালাতে গেলে সোমবার তুমুল উত্তেজনা ছড়াল ভাতার থানার হাড়গ্রামে। পুলিশ জনতা কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ অভিযুক্তদের ধরতে এসে পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করে। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছেন তিন চারজন গ্রামবাসী। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে নিয়ন্ত্রণে আসে এলাকার পরিস্থিতি। এই ঘটনায় পুলিশ দু'জনকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। হাড়গ্রামের দুলেপাড়ার এক ১৭ বছরের কিশোরের সঙ্গে পাশের গ্রাম পাজাডাঙ্গার ১৪ বছরের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। হাড়গ্রামে তিনদিন ধরে মনসাপুজোর অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযোগ, দুলেপাড়ায় ওই কিশোর রবিবার কিশোরীর বাড়ির কাছে গেলে তখন তাকে আটকে মারধর করে মেয়েটির বাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে হাড়গ্রাম থেকে ছেলেটির পরিবার ও আত্মীয়রা এসে পাল্টা মেয়েটির পরিবারের লোকজনদের মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে মেয়েটির পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
শনিবার পুলিশের কাছে খবর আসে ওই ঘটনা জেরে ফের এলাকায় অশান্তি হচ্ছে।পুলিশ হাড়গ্রামে যেতেই ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়। হাড়গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বনাথ মাঝি, বিধান মাঝিদের অভিযোগ ‘‘দুই কিশোর কিশোরীর পারিবারিক ঝামেলার মধ্যে গ্রামের অন্যান্যরা কেউ জড়ায়নি। কিন্তু পুলিশ এসে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। বাড়ি বাড়ি ঢুকে গালিগালাজ করেছে। মেয়েদেরকেও লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে।’’
তবে ভাতার থানার আইসি জানান পুলিশ কারও ওপর লাঠিচার্জ করেনি। কয়েকজন এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিল। তারপরেই গ্রামের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পুলিশের গাড়ি আটকে দুলেপাড়ার বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারপর ঘটনাস্থলে যায় আরও পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ এনে এই ঘটনায় পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে।