ভাঙড়ের বাগজোলা খালপাড়ের রাস্তা বেহাল, হুঁশ নেই প্রশাসনের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পিচের রাস্তা জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষায় তাতে জমে রয়েছে জল। ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে। ভাঙড়ের বাগজোলা খালপাড়ের রাস্তার ছবি এটাই। রাস্তার পাশে কৃষ্ণমাটি সেতুর কাছে মিক্সিং প্লান্টের জন্য বড় বড় গাড়ি আসার
শেষ আপডেট: 7 August 2020 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পিচের রাস্তা জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষায় তাতে জমে রয়েছে জল। ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে। ভাঙড়ের বাগজোলা খালপাড়ের রাস্তার ছবি এটাই। রাস্তার পাশে কৃষ্ণমাটি সেতুর কাছে মিক্সিং প্লান্টের জন্য বড় বড় গাড়ি আসার জন্যই রাস্তা এভাবে ভেঙে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
নজরুল ইসলাম সরণির কাছে কেষ্টপুর থেকে শুরু করে রাজারহাট নিউটাউন ও ভাঙড় হয়ে হাড়োয়ার বিদ্যাধরী নদীতে মিশেছে কেষ্টপুর খাল বা বাগজোলা খাল। এই খালের উত্তর দিকের পাড় বরাবর ভাঙড়ের গাবতলা থেকে জামিরগাছি পর্যন্ত অনেকগুলো বস্তি রয়েছে। অভিযোগ, সাতুলিয়াতে একটি ফসলের খেত নষ্ট করে সেখানে মিক্সিং প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে সম্প্রতি। যেখান থেকে রাজারহাট নিউটাউন সহ অন্যত্র সিমেন্টের মিক্সিং সরবরাহ করা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এটা করতে গিয়েই খারাপ হয়ে যাচ্ছে বাগজোলা খাল পাড়ের পিচের রাস্তা। স্থানীয় যুবক মইনুল মোল্লা বলেন, “পাথর ও বালি বোঝাই ১২ থেকে ১৪ চাকার ভারী গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। রাস্তা ভেঙেচুরে যা-তা হয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক নেতারা কেউ কিছু বলেন না।”
সাতুলিয়ার এক গৃহবধূ আসমা বিবি বলেন, “রাস্তায় এত জল কাদা যে ছোটরা টিউশনি পড়তে যেতে পারে না। কাছেই রয়েছে হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতাল যেতে গিয়ে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
[caption id="attachment_247986" align="aligncenter" width="1152"]

বাগজোলা খাল পাড়ের পিচের রাস্তা[/caption]
ভাঙড়ের সিপিএম নেতা তথা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তুষার ঘোষ বলেন, “ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের ভগবানপুর অঞ্চলে তিন তিনটি মিক্সিং প্ল্যান্ট গড়ে উঠেছে। সাতুলিয়া ছাড়াও পাকাপোল ও পিঠাপুকুর এলাকায় আরও দুটি প্ল্যান্ট আছে। গ্রাম পঞ্চায়েত অনেক টাকা খেয়ে মিক্সিং প্ল্যান্টগুলি তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে। যার জেরে রাস্তাগুলির দফারফা ঘটছে। রাস্তা আটকে দিনভর সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকছে। সে জন্যও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।”
ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিজিয়া বিবি বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই ওঁদেরকে ব্যবসা করার জন্য ছাড়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছি। ওখানে কী ধরনের বা কত টন মাল নিয়ে গাড়ি আসছে সেটা দেখার দায়িত্ব মোটর ভেহিক্যালস এবং পুলিশের।” ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ওহিদুল ইসলাম খারাপ রাস্তা নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বর্ষার সময় ওই রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বলা হয়েছে এই সময় কাজ বন্ধ রাখার জন্য। আমরা জেলা প্রশাসনকে বলেছি বিষয়টির দিকে নজর দিতে।”