দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অনৈতিক ভাবে’ স্কুলের ফি নেওয়ার প্রতিবাদে বারাসতে যশোর রোড এবং ৩৪ ও ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন অভিভাবকরা। ফলে নাকাল হলেন পথচারীরা।
অনৈতিক ভাবে ফি আদায়ের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে বারাসতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে যশোর রোড, ৩৪ ও ৪৫ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা। সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজট হয় জাতীয় সড়ক জুড়ে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
পথ অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারাসত থানার পুলিশ। অভিভাবকদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
লকডাউনের জন্য দু’মাস ধরে স্কুল বন্ধ। অভিভাবকদের অভিযোগ, তা সত্ত্বেও স্কুলের ফি বাবদ সব রকম চার্জই ধার্য করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকরা সেই টাকা দিতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে স্কুলের অধ্যক্ষ তাতে রাজি হননি। তিনি জানিয়ে দেন স্কুল খোলার পরে কথা বলবেন। অধ্যক্ষার এই অবস্থানে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান অভিভাবকরা।
স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, “স্কুল বন্ধ দু’মাস ধরে, তার পরেও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের ফি বাবদ সব রকম টাকা ধার্য করছে যা অনৈতিক।” অনলাইনে স্কুল ক্লাস নেওয়ার কথা বলছে, সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ ক্লাস করা শিশুদের কাছে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তাছাড়া অনলাইনে পড়াশোনা চললেও শিক্ষকদের বেতন বাবদ একটা বিশাল অঙ্ক ধার্য করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল সুনন্দা জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “এটা স্কুলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমরা এ নিয়ে কোনও কথা বলব না। স্কুল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।” স্কুলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারই যদি হবে তা হলে এক ঘণ্টা ধরে পথ অবরোধ কেন হল? রাস্তায় লোকজনকে কেন হেনস্থা হতে হল? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “পুলিশ-প্রশাসন চাইলে অবরোধকারীদের গ্রেফতার করতে পারে।”