দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরবন্দি মানুষজনের জন্য চালের জোগান দিতে রাতদিন এক করে খেটে চলেছেন চাল মিলের শ্রমিকরা। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে এই সব শ্রমিকরাই এখন ভরসা কারণ এঁরাই হলেন মানুষকে খাদ্য জোগান দেওয়ার কারিগর।
করোনা আতঙ্কে মানুষের পাশে সরকার। আগামী ছ’মাস রেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কার্ডের গ্রাহকদেপ বিনা মূল্যে চাল দেবে রাজ্য সরকার তাই মিলগুলিতে দিন রাত এক করে চলছে চাল তৈরির কাজ।
পূর্ব মেদিনীপুরের জনসংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ। এত মানুষকে চাল দিতে জেলার মিলগুলিতে দিন রাত এক করে চলছে কাজ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২৭টি চালকলে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই চলছে চাল উৎপাদন। লকডাউনে কাজের যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য রাজ্য সরকার সমস্ত রকম সাহায্য করছে। শ্রমিকদের যাতে কারখানায় যেতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য খাদ্য দফতর থেকে পরিচয়পত্র করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, “শ্রমিকদের যাতে যাতায়াতের কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য বিডিও অফিস থেকে পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।”
মিল চালাতে বেশ কিছু যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়, রাজ্য সরকারের সহযোগিতার সেজন্যও চালকলগুলিকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। ইতিমধ্যে প্রায় দু’ মাসের চাল মিল থেকে নিয়ে গিয়ে খাদ্য দফতরের গুদামে মজুত রাখা হয়েছে।
যে সমস্ত শ্রমিক বাড়ি যেতে পারছেন না মিল মালিকরা নিখরচায় তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শ্রমিকরাও এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দিন রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারীর আকার নেওয়ার ফলে সারা দেশে স্বাভাবিক জীবন স্তব্ধ। লকডাউনের ফলে মানুষ এখন গৃহবন্দি, দেশে এখন কার্যত অচলাবস্থা। এই পরিস্থিতেতে সাধারণ মানুষের যাতে খাবারের কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য বিনামূল্যে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার। পশ্চিমবঙ্গও ব্যতিক্রমী নয়। রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাসে চাল ও গম মিলিয়ে মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।