দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: সোমবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ ঝাড়খণ্ড থেকে মালদহে আসার পথে মানিকচকের কাছে গঙ্গানদীতে ডুবে যায় একটি বার্জ। প্রায় দশটি লরি ওই বার্জে ছিল। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী নিখোঁজ হয়ে যান। সোমবার রাতেই ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে জানায় পুলিশ। বাকিদের এখনও খোঁজ মেলেনি। খোঁজ পাওয়া যায়নি লরিগুলিরও। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। নামানো হয়েছে ডুবুরিদের।
মঙ্গলবার সকাল থেকে মানিকচকের গঙ্গা নদীর ঘাটে ফের নতুন করে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামানো হয়েছে ডুবুরিদের। বোটে করেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লরিগুলির খোঁজ মেলেনি। সকাল থেকেই জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এখনও অনেকে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ মানিকচকের গঙ্গার ঘাটের কাছেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই লঞ্চ ডুবির ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই এলাকার মানুষের ভিড় জমে যায় গঙ্গার ঘাটে। খবর পেয়ে পৌঁছয় মানিকচক থানার পুলিশ। এত বড় মাপের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালদহ থেকে মানিকচকে ছুটে যান জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র এবং পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের অফিসার ও কর্মীরাও ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
সোমবার রাতেই পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে ১০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের অনেককেই মানিকচক এবং মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। মানিকচক ঘাটে অন্ধকার থাকায় জেনারেটরের সাহায্যে সার্চ লাইট জ্বালিয়ে চলে উদ্ধার কাজ। কিন্তু বাকিদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
স্থানীয় ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের রাজমহল থেকে মালদহের মানিকচকের আসছিল বিশাল মাপের এই বার্জটি। দশটি পণ্যবাহী লরি ছিল তাতে। প্রতিটি লরিতে বালি, পাথর মজুত করা ছিল। মানিকচকের গঙ্গার ঘাটে লঞ্চটি লাগার মুহূর্তেই বেসামাল হয়ে পড়ে এবং লরিগুলি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে একের পর এক গঙ্গার গভীরে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর লঞ্চের পিছন দিকের অংশের একটি যন্ত্রাংশ মুহূর্তের মধ্যে বিকল হয়ে ভেঙে যায়। এরপরই লঞ্চটি ডুবে যেতে শুরু করে। সেই সময় যাত্রীদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, যাত্রীদের অনেকেই তাঁদের চোখের সামনে তলিয়ে যেতে থাকেন। উদ্ধার কাজ চালানোর পাশাপাশি কী কারণে লঞ্চটি ডুবল তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। প্রশ্ন উঠেছে অতিরিক্ত পণ্য-সামগ্রী বোঝাই লরি নিয়েই চলাচল করার জন্যই কি এই বিপত্তি ঘটেছে। সে ব্যাপারে অবশ্য পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।