দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: হাসপাতালে আসা মাত্র রোগীর করোনা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে শুরু হল ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এ কথা জানা গেছে। এই পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করার পরে পরীক্ষা করে রিপোর্ট পেতে মাত্র পনেরো মিনিট সময় সময় লাগবে। ফলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যাবে। সংক্রমণের আশঙ্কাও কমবে। খুব শীঘ্রই ব্লক স্তরে এই সুবিধা দেওয়া হতে চলেছে।
এত দিন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের পরে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল মলানদীঘির বিশেষ করোনা হাসপাতালে। সেখানে নমুনা পরীক্ষা করার পরে রিপোর্ট আসতে কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছিল। রিপোর্ট পজিটিভ হলে তার পরে চিকিৎসা শুরু হচ্ছিল। তত দিন রোগী অন্য কারও সংস্পর্শে এসে থাকলে সেখান থেকে আরও অনেকের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। হাতে হাতে রিপোর্ট পেলে তা করোনা সংক্রমণ রুখতে অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।
জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কোনও রোগী হাসপাতালে এলে চিকিৎসকরা তখনই করোনার পরিচর্যা শুরু করতে পারছিলেন না। রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই বে কিছুটা সময় চলে যাচ্ছিল। তবে এই পদ্ধতিতে মাত্র পনেরো মিনিটেই মিলবে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট। কোনও রোগী জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসকদের কোনও উপায় ছিল না এটা আদপে করোনা সংক্রমণ নাকি অন্য কোনও সমস্যা তা বোঝার। কোনও রকম পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়াই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিতে হচ্ছিল। এতে করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল ভাবে বাড়ছিল। ৱ্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হওয়ার ফলে সেই আশঙ্কা কিছুটা কমবে বলে আশা।
দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রজিৎ মাজি এ দিন বলেন, “ৱ্যাপিড অ্যান্টিজেন কিড টেস্ট চালু হওয়ার ফলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। কারও রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হবে। অর্থাৎ ওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া অথবা অন্য ওয়ার্ডের সঙ্গে কোনও ওয়ার্ডকে যোগ করে দেওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এর ফলে করোনা ছাড়া অন্য রোগীরাও চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকঠাক পাবেন।”
ৱ্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সুবিধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতেও শুরু করে দেওয়া হবে বলে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ইন্দ্রজিৎ মাজি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন।