দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলায় কত জনের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তা জানতে এবার ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করতে চলেছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এখনও পর্যন্ত যে সব গ্রামে করোনা আক্রান্তের হদিস পাওয়া গেছে সেই গ্রামগুলিতেই এই পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে মঙ্গলবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ৩০টি ক্লাস্টারে ভাগ করে করোনা আক্রান্ত গ্রামগুলিতে গিয়ে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তারপরে ব্যাপক ভাবে সেই রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এ ব্যাপারে শামিল করা হচ্ছে আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে তৈরি স্বাস্থ্য দফরের বিশেষ দল। রিপোর্ট এলে যাচাই করে দেখা হবে কত জনের শরীরে তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি।
এই প্রক্রিয়ার ফলে এক দিকে যেমন জেলায় করোনা সংক্রামিত সংখ্যা বোঝা যাবে তেমনি বোঝা যাবে করোনা আক্রান্তদের শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির মাত্রা ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে।
রাজ্যের মধ্যে প্রথম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফরের তরফেই ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট হতে চলেছে।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ধরনের গবেষণা যথেষ্ট কার্যকরী হবে বলে মত চিকিৎসক মহলের। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের দুই চিকিৎসক পড়ুয়ার রক্তের নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় ব়্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট। এদিন যে দুজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় তাঁরা ভাইরোলজি বিভাগে কর্মরত। তাঁরা নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন। তাই তাঁদের অ্যান্টিবডি আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি গ্রাম থেকে ৩৬০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা করা হবে।
জেলায় কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এখন এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬১। তবে প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে। ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ৪০ শয্যার সেফ হাউস তৈরি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক, বিডিও ও অন্য প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সাংবাদিকদের জন্য জেলায় আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরা কেউ করোনা পজিটিভ হলে এই বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও পর্যন্ত ৭৮৬ জন করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন। নতুন করে যে ৬০ জন সংক্রামিত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে এক জন চিকিৎসকও রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ৪৫৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মারা গেছেন ১২ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৩১৬ জন।