বর্ধমানে রাখিবন্ধন উৎসবের মুখে সমস্যায় ব্যবসায়ীরা, বিক্রি প্রায় নেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাখিবন্ধন উৎসবেও ব্যবসা ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিনা রাখি বর্জন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভাবে প্রচার চলছে তাতে বিপাকে পড়েছেন রাখি ব্যবসায়ীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চলছে, হাতে সুতো বাঁধলেই চলবে।
রাখ
শেষ আপডেট: 30 July 2020 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাখিবন্ধন উৎসবেও ব্যবসা ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিনা রাখি বর্জন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভাবে প্রচার চলছে তাতে বিপাকে পড়েছেন রাখি ব্যবসায়ীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চলছে, হাতে সুতো বাঁধলেই চলবে।
রাখির আলাদা একটা কদর রয়েছে। রাখির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, জড়িয়ে আছে ভালোবাসা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য রাখি উৎসব এবার ঘটা করে পালিত হওয়ার কোনও উপায় নেই। আর এতেই সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই লকডাউনের জন্য কয়েক মাস ধরে ব্যবসা ভীষণ ভাবেই ধুঁকছে। ছোট বড় সব ব্যবসায়ীই এখন চরম সমস্যায়। অনেক মাঝারি সংস্থায় কর্মী সঙ্কোচন করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। কাজ হারিয়ে অনেকেই এখন রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন।
এরই মধ্যে আগামী সোমবার ৩ আগস্ট রাখিবন্ধন উৎসব। এই দিনটিও বাঙালির অন্যতম এক পার্বনে পরিণত হয়েছে। এই সময়ে বহু ছোট দোকান তো বটেই, বড় দোকান থেকে ফুটপাথে পর্যন্ত সর্বত্র রাখি বিক্রি হয়। অনেকে রাখির সাময়িক ব্যবসা করেন। সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই দোকানের বাইরে নানা রঙের নানা আদলের রাখি টাঙানো শুরু হয়ে যায়। তার দাম কয়েক টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এবার অবশ্য সবই যেন ওলটপালট হয়ে গেছে। বর্ধমান শহরের দু'চারটে দোকানে রাখি ঝোলানো রয়েছে ঠিকই তবে দেখেই বোঝা যায় সে সব পুরোনো। এ বছরের নয়। কোভিডের জন্য যে লকডাউন চলছে তাতে এ বছর রাখি তৈরি হয়নি। আবার তা আমদানিও হয়নি একেবারেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা অবশ্য অন্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন এবার রাখি কেনার লোকই তো নেই!

আর দিন তিনেক পরে রাখিবন্ধন উৎসব। এই সময়ে প্রত্যেক বছর বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরে থেকে বিসি রোডের দু'পাশে সারি সারি শুধুই রাখির পসরা সাজানো থাকত। বিকিকিনিও ভালই হত। ক্রেতাদের পছন্দ মতো নানা রকম রাখি শোভা বাড়াত শহরের। বিসি রোড ছাড়াও শহরের বীরহাটা, বড়বাজার, নীলপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের রাখি পাওয়া যেত।
কোভিডের জেরে তালা এবার সেই রাখিতেও। তাই বাজারে বেচা কেনা নেই বললেই চলে। রাখি ব্যবসায়ী শেখ সজু, বাপি দাস প্রমুখ জানান দোকানে রাখির কেনাবেচা একদমই নেই। নতুন করে তাঁরা এ বছর রাখি তোলেননি। তাছাড়া লকডাউনের জন্য যানবাহন না থাকায় এতদিন কলকাতাতেও যেতে পারেননি। এখন লকডাউন উঠেছে ঠিকই তবে তারপরেও কলকাতা জুড়ে রেড জোন বা কনটেনমেন্ট জোনের ছড়াছড়ি। এই অবস্থায় কলকাতায় জিনিস কিনতে যাওয়াও ঝুঁকি প্রায় কেউই নিতে চাইছেন না। সব মিলিয়ে ধাক্কা খেয়েছে ব্যবসা।