অভিজিৎ সম্পর্কে রাহুলের কুমন্তব্য, দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি বলেই নোবেল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পর্যন্ত যা ছিল গেরুয়াবাহিনীর সাধারণ কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ার মিম বানানোর উপাদান, শুক্রবার সেটাই প্রকাশ্যে বলে ফেললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়া প্রসঙ্গে বললেন, “ক
শেষ আপডেট: 18 October 2019 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পর্যন্ত যা ছিল গেরুয়াবাহিনীর সাধারণ কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ার মিম বানানোর উপাদান, শুক্রবার সেটাই প্রকাশ্যে বলে ফেললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়া প্রসঙ্গে বললেন, “কারও দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হলে তিনি নোবেল পাচ্ছেন দেখছি!”
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা অধুনা সর্বভারতীয় বিজেপিজর সম্পাদক এ দিন বলেন, “যাঁর দেখছি দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, তিনিই নোবেল পেয়ে যাচ্ছেন। আমি জানি না এটা নোবেল পাওয়ার জন্য বিশেষ কোনও ডিগ্রি কিনা।”
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এ দিন বলেন, “অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় চিন্তাধারার কথা আপনারা সবাই জানেন। ওঁর তত্ত্বকে ভারতের জনতা খারিজ করে দিয়েছে আগেই। উনি বামপন্থী ঘেঁষা।” রেলমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানাতে গিয়েই রাহুল সিনহা এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “পীযূষ গোয়েলের বক্তব্য ঠিক। কারণ এঁরা অর্থনীতিকে বামপন্থী নীতিতে রাঙিয়ে দিয়েছেন। অর্থনীতিকে বামপন্থার রীতিতে চালাতে চায়। বামপন্থার রীতি এই দেশেই অচল হয়ে গিয়েছে।”
রাহুল সিনহার এই মন্তব্য নিয়ে শুধু রাজনীতির উঠোনে নয় ঢি ঢি পড়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, পীযূষ গোয়েল তবু শালীনতা বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু রাহুল সিনহা শালীনতা ও রুচি যেন জলাঞ্জলি দিয়েছেন!
তাঁদের মতে, পীযূষ অভিজিৎকে রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন। কারণ, একে তো অভিজিৎ কেন্দ্রে বর্তমান মোদী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনা করে চলেছেন। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বিপদ আসন্ন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়া এও বাস্তব যে লোকসভা ভোটের সময়ে কংগ্রেসের ইস্তাহার রচনার সময় ইউনিভার্সাল ইনকাম তথা সার্বজনীন আয় প্রকল্পের খসড়া তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল। অভিজিতের মন্তব্য রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি তথা মোদী সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলছে বলেই সম্ভবত পীযূষ তাঁর পাল্টা সমালোচনায় নেমেছেন। যদিও কেন্দ্রের এক জন সিনিয়র মন্ত্রী হিসাবে পীযূষেরও এ ব্যাপারে সংযত থাকাই উচিত ছিল। কারণ, অর্থনীতিতে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতের সংঘাত হবে সেটাই স্বাভাবিক।
পর্যবেক্ষকরা আরও বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অভিজিতের সমালোচনা করছেন দেখেই হয়তো রাহুল এ ব্যাপারে অতি উৎসাহী হয়ে পড়েছেন। ব্যাপারটা কে আগে প্রাণ করিবেক দান-এর মতোই হয়ে গিয়েছে।
এ ব্যাপারে বামেরা তো বটেই বাংলায় শাসক দল তৃণমূলও বিজেপি-র সমালোচনা করেছে। দলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করে তাঁর সাফল্য ও প্রাপ্তিকে এ ভাবে খাটো করার চেষ্টা ঠিক নয়। অভিজিৎ বাংলার গর্ব, বাঙালির গর্ব"।
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…