দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় দুই জেলার প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে কর্মতীর্থ ও চা বাগান নিয়ে প্রশ্ন সূচক অভিযোগ শুনতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে। কর্মতীর্থ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা।
প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্যেই কর্মতীর্থ নিয়ে অভিযোগ করেন ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক মিতালী রায়। তিনি বলেন, "দিদি, কথা ছিল ৫০০ দিনের মধ্যে কর্মতীর্থের কাজ শেষ হবে। কিন্তু আট বছরেও শেষ হয়নি। হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিন জন আত্মহত্যা করেছেন!"
দলীয় বিধায়কের থেকে এমন অভিযোগ শুনেই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, কারা করছে কাজ? তখন জেলাশাসক বলেন, প্রকল্পটি সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের। বাস্তবায়িত করছে জেলা পরিষদ। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে মাথায় ইট বয়ে কাজ শেষ করুন।"
চা বাগান নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, লকডাউনের মধ্যেও ন'টি চা বাগান খোলা হয়েছে। কিন্তু বাম আমল থেকে বন্ধ কিছু বাগান এখনও বন্ধই রয়েছে। এরপরই মলয়বাবু বলেন, এর মধ্যে অনেকগুলি অ্যালকেমিস্টের মালিকানাধীন।
প্রসঙ্গত, অ্যালকেমিস্ট চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অন্যতম অভিযুক্ত। তাঁর কর্ণধার কেডি সিং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে কেডি সিংয়ের সঙ্গে তৃণমূলের তেমন একটা ঘনিষ্ঠতা বাইরে থেকে দেখা যায় না। এই অ্যালকেমিস্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার কারণে.মিঠুন চক্রবর্তীকেও ইডি ডাকাডাকি করেছিল। মিঠুনও ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। কাকতালীয় ভাবে তার পরেই মিঠুন চক্রবর্তী মেয়াদ ফুরোনোর আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন।
মলয় ঘটকের ওই কথার প্রত্যুত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, "নির্দিষ্ট করার দরকার নেই। আমি পুলিশকে দু'বছর আগেই বলে দিয়েছি অ্যাকশন নিতে। ওটা প্রশাসন দেখে নেবে।"
যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, চা বাগান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যে তঞ্চকতা করেছে তার ফল লোকসভায় পেয়ে গিয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, এখনও চা বাগানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারেনি রাজ্য সরকার। তা ছাড়া কুলি লাইনের উন্নয়নের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি।
বুধবার কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।