দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: রঘুনাথপুর। টলিউডের অনেক পরিচালক এবং প্রযোজকের কাছেই এখন অন্যতম পছন্দের লোকেশন। আউটডোরে শ্যুটিংয়ের জন্য অনেকেই আজকাল বেছে নিচ্ছেন পুরুলিয়ার এই জায়গাটিকে।
রঘুনাথপুরে সিনেমার শ্যুটিংয়ের শুরুটা হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। রঘুনাথপুরের কাছে জয়চণ্ডী পাহাড়ে 'হীরক রাজার দেশে'-ছবির একটা বড় অংশের শ্যুটিং করেছিলেন তিনি। তারপর অবশ্য দীর্ঘদিন এই অঞ্চলে কোনও শ্যুটিং হয়নি। তবে হালফিলে ফের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আউটডোর শ্যুটিংয়ের জন্য অন্যতম পছন্দের লোকেশন হয়ে উঠেছে রঘুনাথপুর। সত্যজিৎ রায়ের পর রঘুনাথপুরে শ্যুটিং করতে আসেন পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তিনি বেশ কয়েকটি সিনেমার শ্যুটিং করেছেন এই পুরুলিয়াতে। কেবল টলিউড নয়। তালিকায় রয়েছে বলিউডও। বি-টাউনের দুই অভিনেতা গোবিন্দা এবং রাজপাল যাদবও সম্প্রতি শ্যুটিং করে গিয়েছেন নিতুড়িয়া এলাকায়। এ বার শ্যুটিং শুরু হয়েছে রাজর্ষি দে'র নতুন ছবি 'পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ, উত্তর আসবে' ছবির।
মূল ধারার এই থ্রিলার ছবির পরিচালক রাজর্ষি দে জানিয়েছেন, অভীক সরকারের তিনটি ছোট গল্প অবলম্বনেই সিনেমা বানাচ্ছেন তিনি। রাজর্ষি জানিয়েছেন, সিনেমার আউটডোর শ্যুটিংয়ের জন্য তাঁদের ইউনিট প্রথমে ঠিক করেছিল ভোপালে যাবেন। তবে ছবির প্রযোজক অঞ্জন মজুমদার রঘুনাথপুরের নীলডি পাহাড়ের লোকেশান দেখার পরেই মত পাল্টায় রাজর্ষির ইউনিট। ভোপাল বাদ দিয়ে এখানেই শ্যুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
রাজর্ষির মতো অন্যান্য পরিচালকদের আগ্রহী করতে প্রশাসনিক কাজের শত ব্যস্ততাকে সরিয়ে রেখে 'পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ, উত্তর আসবে' ছবিতে অভিনয় করলেন খোদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, রঘুনাথপুরের ২ নম্বর ব্লকের নীলডি পাহাড়ে ঘোড়ায় চড়ে শ্যুটিংও করেন তিনি। জানান, এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে চলচ্চিত্র জগত যাতে রঘুনাথপুরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, তা নিশ্চিত করতে নিজেই অভিনয় করেছেন। বর্তমানে, রাজ্য সরকার জোর দিচ্ছে পর্যটনে। বিভিন্ন জায়গায় সুদৃঢ় করা হচ্ছে পরিকাঠামো। সেই সময়েই সিনেমায় অভিনয় করে টলিউডকে বার্তা দিলেন রঘুনাথপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।