দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পর্কের টানাপড়েনে প্রেমিকার গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রেমিকেরও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু'জনের ভর্তি হাসপাতালে। এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে।
পরিবারের অভিযোগ, ১৭ বছরের কিশোরীর সঙ্গে প্রতিবেশী গ্রাম কুম্ভচকের অসীম ঝুলকি নামে এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বছর খানেক ধরে। কিন্তু এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়েটির পরিবার। বাড়ির অমতে যেতে চায়নি কিশোরীও। সে কথা সে জানিয়েছিল ওই যুবককে। আর তাতেই হয় বিপত্তি।
গতকাল সন্ধ্যায় টিশন থেকে বাড়ির ফেরার পর কিশোরী পরিবারকে জানায় অসীম জোর করে তার ফোন কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে কিশোরীর বাড়ির ফোনে ফোন করে অসীম এবং মোবাইল ফেরত নিয়ে যেতে বলে। অসীমের ফোন পেয়ে মোবাইল আনতে যায় কিশোরী। তখনই সুযোহ বুঝে তার গলায় ছুরি চালিয়ে দেয় অসীম। তারপর নিজের গলাতেও ছুরি চালায় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় ততক্ষণে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই কিশোরী। তবে গুরুতর জখম অবস্থায় অসীমই গিয়ে কিশোরীর বাড়ির লোককে সব কথা জানায়। এরপর দু'জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তারা।
গোটা ঘটনায় কিশোরীর পরিবার অসীমকেই দায়ী করেছে। যদিও যুবকের পরিবারের পাল্টা অভিযোগ, কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকে তাদের ছেলে। লকডাউনে বাড়ি এসেছিল সে। শুক্রবার কাজের জায়গায় ফেরার কথা ছিল তার। সেই অনুযায়ী কাটা ছিল প্লেনের টিকিট। মাঝে বছর খানেক ধরে ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও মেয়ের বাড়ি থেকে বারবার অসীমকে বলা হয়েছিল সে যেন কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক না রাখে। এমনকি কিশোরী নিজেও নাকি অসীমের বাড়ি গিয়ে একথাই বলেছে। এমনটাই দাবি করেছে আহত যুবকের পরিবার। তারা এও জানিয়েছে যে দীর্ঘদিন অসীমের সঙ্গে ওই কিশোরীর কোনও সম্পর্ক ছিল না। আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরীই ফোন করে অসীমকে ডেকে পাঠিয়েছিল। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিশোরী এবং যুবক সুস্থ হলে তাদের বয়ান নেবেন তদন্তকারীরা। তারপর খতিয়ে দেখা হবে যে কে এমন ঘটনার জন্য প্রকৃত ভাবে দায়ী আর কেনই বা এমন কাণ্ড ঘটল।