দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন বাংলার মানুষ। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছিল হাওড়া জেলা কংগ্রেস। মধ্য হাওড়ার শীতলা মন্দিরে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভ্রজ্যোতি দাস বলেন, “হাওড়া জেলা কংগ্রেসের ব্যাপারে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনেক অবদান রয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি এই জেলায় থেকেছেন এবং এই জেলারই একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।”
হাওড়ার বাঁকড়া ইসলামিয়া হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। শিক্ষক হিসাবে প্রাক্তন ছাত্ররা তাঁকে এখনও ভুলতে পারেননি। ১৯৫৭ সালে তিনি ওই স্কুলে যোগ দেন। পড়াতেন বাংলা, ইতিহাস ও ইংরেজি। এক টানা প্রায় তিন বছর তিনি ওই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তখন মধ্য হাওড়ার কদমতলা এলাকায় একটি বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন। ওই স্কুলের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ গোলাম রসুল বলেন, “আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম তখন প্রণববাবু ওই স্কুলে যোগ দেন। ক্লাসে সুন্দর ভাবে পড়াতেন বাংলা ও ইতিহাস। ছাত্ররা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর পড়া শুনত।” এখনও ওই স্কুলে প্রণববাবুর হাজিরা খাতা সযত্নে রাখা আছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাই প্রণব মুখোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় গোটা দেশের মতো একই ভাবে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরাও।
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহামত্যুঞ্জয় মহাযজ্ঞ চলছে তাঁর পৈত্রিক গ্রাম বীরভূমের কীর্ণাহারেও। স্থানীয় জপেশ্বর শিবমন্দিরে মঙ্গলবার জন্মাষ্টমী তিথিতে পুজো শুরু হয়েছে। বাহাত্তর ঘণ্টা ধরে তা চলবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। জন্মাষ্টমীর দিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে এই মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছেন।
তাঁর বাবা ও মায়ের স্মৃতি রক্ষা করার জন্য জুবুটিয়ায় জপেশ্বর শিবমন্দিরটি নতুন করে নির্মাণ করান প্রণব মুখোপাধ্যায়। দিল্লি থেকে নিজের পৈত্রিক ভিটেতে এলেই এই শিবমন্দিরে তিনি যান পুজো ও প্রার্থনা করার জন্য।
এখন গুরুতর সঙ্কটে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হন। জানা যায় তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রামিত। তার আগেই অবশ্য পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। মস্তিস্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। বুধবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও তাঁকে ভেন্টিলেটরেই রাখা হয়েছে।