দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে জনবিরোধী আখ্যা দিয়ে এবং লাগাতার পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বুধবার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভে শামিল হল তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব মেদিনীপুরে তিন জায়গায় এদিন বিক্ষোভ দেখান রাজ্যের দুই মন্ত্রী এবং দুই সাংসদ। পশ্চিম বর্ধমানেও বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।
ভারতীয় রেলের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে এবং পেট্রোপণ্যের লাগাতার দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, কাঁথি ও পাঁশকুড়ায় এদিন বিক্ষোভ দেখায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। হলদিয়ায় বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে। দলীয় কর্মীদের নিয়ে হলদিয়ায় নিজের দফতরের বাইরে তিনি প্রতিবাদে শামিল হন। তবে রাজ্যে কার্যত লাফিয়ে করোনায় আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এখানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল স্লোগান লেখা প্লাকার্ড।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ শিশির অধিকারী এদিন কাঁথিতে নিজের বাড়ির সামনে দলীয় কর্মীদের নিয়ে পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানান। পরে শিশির অধিকারী বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার দিনে দিনে রান্নার গ্যাসের ও পেট্রোপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশের খাচ্ছে, দেশের পরছে আর দেশেরই ক্ষতি করে চলেছে।” এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন আর এক সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। এদিন জেলার পাঁশকুড়ায় নিজের বাড়ির সামনে পোস্টার হাতে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রও। তিনিও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে জনবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে এদিন আসানসোলের মেয়র তথা পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূল জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারিও বিক্ষোভ দেখান। আসানসোল পুর নিগমের তৃণমূলের কাউন্সিলররা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলার প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে ও কালো পতাকা দেখিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরোধিতা করেন।
লকডাউন উঠে দেশজুড়ে আনলক পর্ব চালু হওয়ার ঠিক মুখে আবার নতুন করে লকডাউন শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। এই অবস্থায় বাসে সে ভাবে লোক হচ্ছে না। বাসের মালিকরা চাইলেও সরকার চাইছে না বাসের ভাড়া বাড়াতে। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা বেড়ে গেছে। রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে মধ্যবিত্তরা।