দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আজ থেকে বারো বছর আগে সিঙ্গুরের বুকে জমি অধিগ্রহণ রুখতে বেচারাম মান্না ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সেনাপতি। সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনের নেতা। সেই সিঙ্গুরেই সেই বেচারামের দায়িত্ব এ বার পাল্টে গেল। বদলে দিলেন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
তারকেশ্বরে রানি রাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটির কাজ কদ্দুর এগলো, মঙ্গলবার হুগলির প্রশাসনিক বৈঠকে তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশাসনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয়, সিঙ্গুর কলেজের ঠিক উল্টোদিকে ১০ একর জায়গা আছে। ওখানে যদি ইউনিভার্সিটিটা করা হয়, তাহলে ভাল হবে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বেচারামের কাছে জানতে চান। বলেন, “কী রে বেচা, ওখানে জমি আছে?” সবুজ পাঞ্জাবি পরে বেচাবাবু বসে ছিলেন মঞ্চের নীচে বিধায়কদের সঙ্গে। দাঁড়িয়ে বলেন, “হ্যাঁ দিদি আছে।” সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীও গ্রিন ইউনিভার্সিটি তারকেশ্বর থেকে সিঙ্গুরে আনার গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে দেন। প্রশাসনের কর্তাদের বলেন, “তাড়াতাড়ি ওই জমি ঘিরে দাও । কাজ শুরু করো। ফেলে রেখো না।” পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক কর্তাদের দায়িত্ব দিলেও বকলমে পুরোটা দেখভাল করবেন বেচাবাবুই।
চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তারকেশ্বরে গিয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এ দিন স্থান বদলানোর পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাহলে কি তখন জমিজমার বিষয় না দেখেই তড়িঘড়ি ভোট সামনে বলে শিলান্যাস করে দেওয়া হয়েছিল? সেই সঙ্গে তাঁদের এ-ও প্রশ্ন, শিলান্যাসের পর ছ’মাস কেটে যাওয়ার পর কোনও কাজ এগলো না। এটা সরকার দেখল না?
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু বিষয় নিয়ে হুগলির জেলা শাসক রত্নাকর রাওকে মৃদু ধমক দেন। বলেন, “তুমি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সামলে এসেছ। ওখানে চারটে লোকসভা কেন্দ্র। এখানে তিনটে। আই অ্যাম সরি টু সে, তুমি ভাল করে দেখছ না।” তবে এখন দেখার কবে জমি ঘরতে মাঠে নামেন বেচাবাবু। কবে শুরু হয় রানি রাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটির কাজ।