দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পরে এবার বায়োটেকনোলজি হাব তৈরি হতে চলেছে কালিম্পংয়েও। এব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, বিক্ষিপ্ত ভাবে চাষ হওয়া অর্কিড ও মাশরুম থেকে চাষিরা যাতে আরও বেশি করে লাভ করতে পারেন।
ডেন্ডোবিয়াম লিন্ডলে, ডেন্ডোবিয়াম পিয়েরাড্ডি, সিলোজিনি, এনসেপ – কালিম্পং মানেই সেখানে পাহাড়ের গায়ে হয়ে থাকে নানা অর্কিড। তাই একে বলে অর্কিডের স্বর্গরাজ্য। এখানে মাশরুমের চাষও শুরু হয়েছে।
কালিম্পংয়ে অন্তত ৫৫টি প্রজাতির অর্কিডের চাষ হয়। সেই সঙ্গে এখন মাশরুমের চাষও হচ্ছে তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে। রাজ্য সরকার চাইছে অর্কিড ও মাশরুমের বাণিজ্যিকিকরণ হোক। রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বায়ো প্রযুক্তি দফতর এব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এ নিয়ে বৈঠক করেন দফরের প্রধান সচিব বরুণকুমার রায়।
উত্তরকন্যায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতার পর এবার কালিম্পংয়ে চার একর জমিতে তৈরি হবে বায়োটেক হাব। এখানে অত্যাধুনিক ল্যাবের পাশাপাশি থাকছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও। পরবর্তীতে রাজ্যের অন্য জায়গাতেও এই রকম বায়োটেকনোলজি পার্ক তৈরি করার কথা ঠিক হয়েছে। এগুলি শুধু প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই হবে না, চাষবাস সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণামূলক কাজও করা যাবে। এই পার্কের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য আট থেকে দশ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন দফতরের প্রধান সচিব।
যতদিন না এই হাব তৈরি হচ্ছে, ততদিন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো টেকনোলজি বিভাগকে কাজে লাগানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ সই করতে চলেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ। বরুণকুমার রায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক ল্যাব আছে। সেখানে মাশরুমের টিস্যু কালচার থেকে চাষের ব্যবস্থা – সবই আছে কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কোনও অজানা কারণে সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। আমরা দফতর থেকে আর্থিক সহযোগিতা করব যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো টেকনোলজি বিভাগকে কাজে লাগিয়ে এখানকার মাশরুম ও অর্কিড চাষিদের সহযোগিতা করা যায়।”
এই পার্কে জোর দেওয়া হবে অর্কিড ও মাশরুমকে কী ভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যায় সেই বিষয়ের ওপর। বায়ো টেকনোলজির ব্যবহার নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা এই প্রকল্পের অঙ্গ।
কী ধরনের গবেষণা হবে সে ব্যাপারেও রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। দেখা গেল কোনও একটি ফলে পোকা ধরছে কিন্তু তা কেন ধরছে এবং কী পদক্ষেপ করলে সেই ফল রক্ষা করা যেতে পারে, এ নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। এই ধরনের গবেষণা করার সুযোগ এখানে থাকবে। প্রধানসচিব জানান, পাহাড়ে অন্তত সত্তরটি প্রজাতির মাশরুম রয়েছে যেগুলো প্রক্রিয়াকরণ করে খাওয়ার যোগ্য। এই বায়োটেক হাবের মাধ্যমে উন্নত প্রজাতির মাশরুম ও অর্কিড তৈরি করাই লক্ষ্য। আর পাহাড়ের এই অর্কিড ও মাশরুমকে বাজারজাত করতে সহযোগিতা করবে সিআইআই (কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ)।
অর্কিড ও মাশরুম চাষে যাতে জিআই ট্যাগ পাওয়া যায় সেই বিষয়েও পরবর্তীকালে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রধান সচিব জানিয়েছেন।
এদিন বৈঠকে সিআইআই–এর প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো টেকনোলজি বিভাগের প্রতিনিধিরা।