দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা আক্রান্ত হন, বা না হন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃতদের দেহ সৎকারে নাজেহাল হতে হচ্ছে পরিজনদের। কারণ, মিলছে না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। অনেক টাকাতেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোনও রকমে ডোমকে ধরে ভ্যান রিকশায় মৃতদেহ নিয়ে যেতে হচ্ছে সৎকার করার জন্য।
দিন চারেক আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মারা যান পূর্ব বর্ধমানের গলসির এক ব্যক্তি। করোনা রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় তাঁর দেহ মর্গে রাখা হয়। তারপর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় রোগীর পরিজনদের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি পাওয়া যায়নি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মর্গের এক ডোম সাইকেল ভ্যানে করে মৃতদেহ শ্মাশানে পৌঁছে দিয়ে আসে। হতদরিদ্র পরিবারটি সেখানেই দেহ সৎকার করে।
বর্ধমান শহরের বাদামতলা কচিপুকুরের এক ব্যক্তিও সপ্তাহখানেক আগে মারা যান। করোনা রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় দেহটি মর্গে রাখা হয়। দিন তিনেক আগে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। দেহ মর্গে নিয়ে যাওয়ার একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পরিবারের লোকেরা অগ্রিম দেন। কিন্তু করোনা রোগী শুনে অ্যাম্বুলেন্স অগ্রিম ফিরিয়ে দেয়। তাঁরাও এক ডোমের ভ্যানে করে দেহ শ্মাশানে নিয়ে যান।
মৃতের ছেলে সঞ্জীব সূত্রধর বলেন, প্রথমে দেহ পেতে সমস্যা, তারপর অ্যাম্বুলেন্সের সমস্যা। সব মিলিয়ে সাতদিন তাঁদের নাজেহাল হতে হয়েছে। একই অভিযোগ মেমারি, বর্ধমান শহর, ভাতার সহ একাধিক এলাকার রোগীর পরিজনদের।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা এখন নিত্যদিনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে করোনা পরীক্ষার জন্য আটকে থাকা দেহ নিয়ে যেত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। কিন্তু তারা এখন সেই কাজ করতে অস্বীকার করছে। এদিকে হাসপাতালের নিজস্ব কোনও গাড়ি না থাকায় সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে। পচে যাওয়া দেহ ভ্যানে করে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকরভাবে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না।
বর্ধমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”