দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের কারণে দীর্ঘ লকডাউনে এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে মানুষের উপর বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপাতে মোটেই রাজি ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলও তাই। অবশেষে বেসরকারি বাস রাস্তায় নামার জট কেটেছে। আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতা সহ শহরতলিতে নামছে বেসরকারি বাস। পুরনো ভাড়াতেই চলবে বাস। আপাতত বাস ভাড়া বাড়ানোয় অনুমোদন দেয়নি রাজ্য সরকার।
যদিও বাস মালিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, বৃহস্পতিবার থেকে বাস রাস্তায় নামছে ঠিকই তবে কাল না হোক ক'দিন পরও যদি ভাড়া না বাড়ানো হয় তাহলে বাধ্য হয়েই গাড়ি বসিয়ে দিতে হবে।
জয়েন্ট সিন্ডিকেট অফ বাস কাউন্সিলের তরফে বলা হয়েছে, তারা পরিবহণ দফতরকে প্রস্তাব দিয়েছিল l ভাড়া কাঠামো ঠিক করার জন্য একটি রেগুলেটরি কমিটি গঠন করার জন্য। সরকার সেই কমিটি গঠন করেছে। বাস মালিকদের আশা, ওই কমিটি খতিয়ে দেখে ক'দিন পরে হলেও ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করবে।
মঙ্গলবার বাস মালিক সংগঠনগুলি বৈঠকে বসেছিল পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে। সেখানেই একরকম ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৮ জুন সব অফিস কাছারি খোলার আগে বাস রাস্তায় নামবে। বৃহস্পতিবার থেকে সেটাই হতে চলেছে।
প্রথমে ঠিক ছিল সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চলবে। তবে পরে তার বদল করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়ম হয় যত সিট, তত প্যাসেঞ্জার। কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। তাতেও পুরনো ভাড়ায় বাস নামাতে প্রথমে রাজি হয়নি বাস মালিক সংগঠনগুলি। শেষপর্যন্ত জট কেটেছে।
আনলক ওয়ান-এর প্রথম দিন থেকেই লোকের ভিড় চোখে পড়ছিল রাস্তায়। বেসরকারি বাস না থাকা এবং মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সরকারি বাসের উপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। ১ জুন পরিবহণ দফতরে বৈঠক করে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন পরের দিন থেকে দ্বিগুণ সংখ্যায় সরকারি বাস চালাতে। মঙ্গলবার থেকেই বাসের সংখ্যা বাড়ছিল। বুধবার তা আরও বাড়ানো হয়। শুভেন্দুর নির্দেশেই বুধবার কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ১৫ মিনিট অন্তর বাস পরিষেবা চালু করা হয়।
গতকাল, বুধবার উত্তর থেকে দক্ষিণ-- শহরের বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। তবে তা গত দু'দিনের থেকে অনেকটাই কম। আজ থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা পরিবহণ দফতরের। আগামী সপ্তাহ থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতে দিনে ১২০০ টি করে বাস চালাবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী।