দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাড়া নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা শিগগির কাটতে চলেছে বলে জানাল চারটি বেসরকারি বাস ও মিনিবাস মালিক সংগঠন।
মঙ্গলবার বাস মালিকদের সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল পরিবহণ দফতর। সেই বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এদিন বৈঠক শেষে বাস মালিকদের তরফে বলা হয়, বেশ কয়েকটি দাবি তাঁরা সরকারের কাছে জানিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম, ভাড়া কাঠামো কী হবে তা নিয়ে একটা রেগুলেটরি কমিটি গঠন করতে হবে। সেইসঙ্গে, সংক্রমণের এই সময়ে যে চালক, কন্ডাক্টর এবং সহায়করা বাস পরিষেবা দেবেন তাঁদের যাতে স্বাস্থ্য বিমার বন্দোবস্ত করে সরকার। নিয়ম করে দু'বেলা স্যানিটাইজেশন প্রক্রিয়ার জন্যও সরকারি সাহায্য চাওয়া হয়েছে বাস মালিকদের তরফে।
তবে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের এক প্রতিনিধি জানান, রেগুলেটরি কমিটি গড়ার ব্যাপারে পরিবহণ দফতর রাজি হয়েছে। বাকি প্রস্তাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বেসরকারি বাস না নামায় মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। গতকাল, সোমবার, আনলক-১ এর প্রথম দিনেই দেখা গিয়েছিল কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে লম্বা লাইন। গতকালই পরিবহণমন্ত্রী বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, আজ থেকে শহর ও শহরতলিতে দ্বিগুণ সরকারি বাস চালানো হবে। তা ছাড়া মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বাসের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রথমে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চলবে। তারপর গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, যত সিট-তত প্যাসেঞ্জার নিয়ে চলবে বাস। কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন জানিয়ে দেয় নতুন নিয়মে পুরনো ভাড়ায় তারা বাস চালাবে না। তবে বাস ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে শুরু থেকেই গড় রাজি ছিলেন মমতা এবং শুভেন্দু।
এদিন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "জেলায় জেলায় বাস পরিষেবা অনেকটাই শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বাস পরিষেবা মোটামুটি স্বাভাবিক। দূরপাল্লার বাসও সময় মতো চলছে।" তিনি আরও বলেন, "কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আজ থেকে দ্বিগুণ বাস চলছে। কাল, বুধবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে যাতে ১৫ মিনিট অন্তর বাস পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করা হবে।" শুভেন্দু জানিয়েছেন, ফেরি সার্ভিসের প্রথম দিন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান ও নদিয়ার একাংশ মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন। আজ সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে।
৮ জুন থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুলে যাবে। ফলে আরও মানুষ রাস্তায় বেরোবেন। তখন সরকারি বাস দিয়ে সবটা কুলিয়ে উঠবে না বলেই মত অনেকের। তাই সরকারও চাইছে বেসরকারি বাস নামানোর বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে। যদিও তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়ন আইএনটিটিইউসির ছাতার তলায় থাকা বেসরকারি বাস মালিকরা মঙ্গলবার থেকে বেশ কিছু জেলায় অল্প হলেও বাস নামিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।