দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুকে লিখেছিলেন 'বিদায় সবাইকে' পেশায় শিক্ষক অলকেশ। মধ্য রাতে ওই শিক্ষকের এমন পোস্ট নজরে আসে প্রতিবেশী এক যুবতীর। সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে অলকেশের বাড়িতে ছুটে যান তিনি। বাড়ির সকলকে সতর্কও করেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। অলকেশের ঘরের দরজায় বারবার ধাক্কা মেরেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙতে বাধ্য হন পরিবারের লোকেরা। তার পরই উদ্ধার হয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক অলকেশ রায় চৌধুরীর ঝুলন্ত দেহ।
জানা গিয়েছে, অলকেশের আদি বাড়ি হাবড়া থানা এলাকায়। যদিও ছোট্ট থেকে অশোকনগরে পিসির বাড়িতে থেকেই মানুষ তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, চাকরি এবং পরবর্তীতে বিয়ে, সংসার এবং মেয়ের বাবা হওয়া। অলকেশ বাবুর তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাড়ায় চিরকাল ভাল মানুষ বলে পরিচিত মাস্টারমশাইয়ে এ ভাবে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরা।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কেন অলকেশ আচমকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন সে বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছুই জানা যায়নি। অলকেশ কেন এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। পরিবারের লোকেরাও বুঝতে পারছেন না কেন তিনি এমন করলেন। অলকেশের এমন পরিণতিতে হতবাক তাঁর স্কুলের লোকজনও।
গতকাল রাতে আত্মহত্যা করেছেন অলকেশ। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান করেছেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ ঠিক কী তা নিয়ে যথেষ্ট রহস্য এবং ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এর মধ্যেই। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে স্বাভাবিক ভাবেই খাওয়াদাওয়া সেরে নিজের ঘরে শুতে যান অলকেশ। রাত দুটো নাগাদ প্রতিবেশী এক যুবতী দেখতে পান ফেসবুকে অলকেশ লিখেছেন, 'বিদায় সবাইকে'। অজানা আশঙ্কায় মধ্য রাতেই অলকেশের বাড়িতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী ওই যুবতী। তার পরই দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় অলকেশের ঝুলন্ত দেহ।
সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় অশোকনগর থানায়। পুলিশ এসে দেহ নামিয়ে হাবড়া হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে বারাসাতে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক সময় জানা যাবে। কিন্তু কেন আচমকা অলকেশ আত্মহত্যা করলেন এখন সেটাই জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তিনি কোনও কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কিনা সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ।