দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপার সাইক্লোন উমফানের ধাক্কায় দক্ষিণবঙ্গের বিধ্বস্ত ছবিটা এখনও দৃশ্যতই প্রকট। তার সঙ্গেই সবজি আর মাছ-মাংসের দামেও যেন সাইক্লোন বইছে!
কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনার শহর ও মফস্বলের বাজারে সোমবার যা দামে সবজি এবং মাছ, মাংস বিক্রি হচ্ছে, তাতেই স্পষ্ট উমফানের প্রভাব কতটা।
গ্রীষ্মকালীন সমস্ত সবজির দাম এক ধাক্কায় কিলো প্রতি ৩০-৩৫টাকা বেড়ে গিয়েছে। ঝিঙে, পটল, বেগুন-সহ সমস্ত আনাজের দাম বেড়ে গিয়েছে। সোমবার কলকাতার অধিকাংশ বাজারে ঝিঙে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫ টাকা, পটল ৬৫ টাকা কিলো দরে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছ-মাংসের দামও। গত সপ্তাহে মুরগির মাংসর কিলো প্রতি দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৯০ টাকার ভিতর। সেটাই এই সপ্তাহের গোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে ২৫০ টাকাতে। একই অবস্থা ভেরির মাছের ক্ষেত্রেও।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। শুধু দুই চব্বিশ পরগনা নয়, বর্ধমান, হুগলির মতো কৃষিপ্রধান জেলাতেও চাষের মাঠে ঝড়ের দাপট স্পষ্ট। হুগলির চাঁপসড়ার ঢেঁড়স স্বাদের জন্য বিখ্যাত। প্রকাশ মালিক নামের এক চাষির কথায়, "দু'বার ঢেঁড়স লাগানো হয় জমিতে। একবার মাঘ মাসের মাঝামাঝি। সেই ঢেঁড়স ফাল্গুনের শেষ কিংবা চৈত্রের শুরুতে তোলা হয়। তারপর ফের একবার ঢেঁড়স লাগানো হয় মাটিতে। সেটা তোলার সময় এখন। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।"
পোল্ট্রির মুরগির দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হ্যাচারিগুলির ক্ষয়ক্ষতি। কারণ ঝড়ের কারণে বহু হ্যাচারির ক্ষতি হয়েছে। ভেরির মাছের দাম বাড়ার কারণও তাই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় যেমন প্রচুর ভেরি রয়েছে তেমনই বারাসতের শাসন কিংবা বসিরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশের অর্থনীতি ভেরির উপর নির্ভর করে। এবারের ঝড়ে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে সেগুলির। ভেসে গিয়েছে মাছ। ফলে ট্যাংরা, পার্সে, ভেটকির মতো মাছের দাম কিলোপ্রতি দাম ৫০০টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে ঝড়ের পর থেকে জোগানও কমেছে। সেটাও দাম বাড়ার কারণ বলে অনেকের মত।
তা ছাড়া ক্ষতির মুখে পড়েছে পান চাষ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অনেকাংশে পানের বরজ কার্যত মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে উমফান। ক্ষতি হয়েছে ফুল চাষেরও। বাগনান, উলুবেড়িয়া, ফুলেশ্বরের কৃষকদের লকডাউনের কাটা ঘায়ে উমফান যেন নুনের ছিটে দিয়ে চলে গিয়েছে। অনেকের মতে আগামী বেশ কিছু দিন অগ্নিমূল্য চলবে বাজারে।