দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রেড স্টার জোন হাওড়া শহর এখন কার্যত সম্পূর্ণ লকডাউন। সোমবার সকাল থেকে কোনও বাজার ও দোকান খোলেনি। অস্থায়ী ভাবে চলা দুধের দোকানগুলিও রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাজার বসলেই ভিড় হচ্ছে: এই যুক্তিতে বাড়িতে বাড়িতে আনাজ ফেরি করার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ প্রশাসন। হাওড়া শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চল, বিশেষ করে উলুবেড়িয়াতেও কড়াকড়ি শুরু করেছে পুলিশ। গার্ডরেল দিয়ে বহু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
হাওড়া পুর এলাকায় বার বার প্রচার করা সত্ত্বেও দোকান ও বাজারে ভিড় লেগে থাকায় রবিবার সব বন্ধ করে দেয় পুলিশ। যাঁরা আনাজ এবং মাছ ও মাংস ফেরি করতে চান থানা থেকে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাঁদের অনুমতি দিয়ে দেয়। পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে বাজার ফেরি করা।
হাওড়া পুর এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই অবশ্য অভিযোগ করেছেন যে প্রতিটি পাড়ায় এখনও বাজার নিয়ে হাজির হচ্ছেন না ফেরিওয়ালারা। যাঁরা বাজার ফেরি করছেন তাঁরা অনেকেই আংশিক ভাবে পচে যাওয়া জিনিস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে অনেককে সে সবও কিনছেনও।
রবিবার সকাল আটটা থেকে শুরু করে সারা দিন হাওড়া শহরের প্রধান রাস্তায় লোকজন বিশেষ দেখা যায়নি। লোকজন মূলত বাড়িতে থাকায় রাস্তায় পুলিশের পাহারাও তেমন চোখে পড়েনি। তবে গ্রামীণ হাওড়ার ছবিটা একটু অন্যরকমই ছিল। জাপানি গেট এলাকার এক দিক হাওড়া পুর এলাকার মধ্যে পড়ে ও অন্য অংশ প্রশাসনিক ভাবে পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। রবিবার দুপুরে জাপানি গেট অঞ্চলে তরুণদের ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিটি গলিতে কে কী করছে সেদিকে নজর রাখা পুলিশের পক্ষেও কার্যত অসম্ভব।
হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় যাঁরা বাজার-দোকান করতে বেরিয়ে সামাজিক দূরত্ব মানেননি পুলিশ এদিন তাঁদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে উলুবেড়িয়ায় রবিবার সকাল থেকে পুলিশ ছিল অত্যন্ত তৎপর। বারবার লোককে বুঝিয়ে ও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ক্লাবকে বাজারের দায়িত্ব দেওয়ার পরেও লোকের মধ্যে বেপরোয়া ভাব দেখে এদিন পুলিশকে কঠোর হতে দেখা যায়। যে সব মহিলা নিয়ম ভাঙছেন এবং বলার পরেও প্রশাসনের কথা শুনছেন না তাঁদের লাঠি দিয়ে মারতে দেখা গেছে মহিলা পুলিশকর্মীদের।
সোমবার সকাল থেকে অবশ্য রাস্তায় অতি প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে বেরতে দেখা যায়নি। বাজার-দোকান বন্ধ থাকায় বাজারের থলি হাতে আড্ডা দেওয়া বন্ধ। রবিবার দুপুর ও সন্ধ্যার দিকে পুলিশকে বিভিন্ন গলির ভিতরে টহল দিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন হাসপাতালেও পুলিশ খোঁজ নিয়েছে কোথাও কোনও করোনা পজিটিভের লক্ষণ-সহ রোগী এসেছে কিনা।