মণীশ খুনের কিনারা শিগগির, ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে, জানাল পুলিশ
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। যদিও নিজেদের সিবিআই তদন্তের দাবি থেকে সরে আসছে না বিজেপি নেতৃত্ব। এরমধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে নিহত নেতার দে
শেষ আপডেট: 5 October 2020 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। যদিও নিজেদের সিবিআই তদন্তের দাবি থেকে সরে আসছে না বিজেপি নেতৃত্ব। এরমধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে নিহত নেতার দেহ নিয়ে রাজভবনের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে বচসা হয় বিজেপি নেতৃত্বের। তারমধ্যেই এবার রাজ্য পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনার কিনারা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, যেখানে বিজেপি নেতাকে গুলি করা হয়, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অনেক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেই তথ্য প্রমাণের উপর নির্ভর করেই তদন্তের গতি এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে বলে খবর। খুব তাড়াতাড়ি খুনের কিনারা হবে বলেই জানিয়েছে তারা।
প্রথমে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। নামাতে হয়েছিল কমব্যাট ফোর্সও। সোমবার সকালেও এলাকায় গিয়ে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও। প্রাথমিকভাবে পুলিশের তরফে জানানো হয়, দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে ওই বিজেপি নেতাকে।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে একটি টুইট করে বলা হয়, “গত সন্ধ্যায় ব্যারাকপুরের টিটাগড় এলাকায় একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধের তদন্ত করছে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা সহ সম্ভাব্য সমস্ত কারণ খতিয়ে দেখছে কারণ মৃতব্যক্তি কয়েকটি হত্যা ও হত্যার চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।”
পুলিশের তরফে আরও বলা হয়, “যথাযথ তদন্ত ছাড়াই কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন না। সোশ্যাল মিডিয়াতে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করার অর্থ তদন্তে হস্তক্ষেপ করা। দয়া করে এ থেকে বিরত থাকুন।” অর্থাৎ ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেও বিজেপি নেতাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরেই এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন সিআইডি আধিকারিকরা। দুপুরেই ঘটনাস্থলে যান সিআইডির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। পুরো এলাকা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সিআইডি যাওয়ার পরেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে টিটাগড়। পরিস্থিতি মোতায়েনে নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, কাঁচের বোতল ছোড়া হয় বিজেপির জমায়েত থেকে। তারপরেই কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। লাঠিচার্জ করা হয়। এই ঘটনায় ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় টিটাগড়।
অবশ্য এই খুনের ঘটনায় সরাসরি পুলিশকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। গতকাল তিনি বলেন, তৃণমূলের লোকজনই মণীশকে গুলি করেছে। গোটা ঘটনায় পুলিশের হাত রয়েছে। নাহলে থানার কাছে ১৫-১৬ জন মিলে এই ধরনের হামলা চালাতে পারে না। সোমবার অর্জুন ফের অভিযোগ করে বলেন, যে বন্দুক দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে, সেটা পুলিশের বন্দুক। থানা থেকেই সেটা দুষ্কৃতীদের দেওয়া হয়েছিল। কাজের পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ করা হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের তরফেও। যদিও রাজ্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখছে প্রশাসন। আর রাজ্য পুলিশ জানাল, শিগগির এই ঘটনার কিনারা হবে।