দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ায় ফাঁকা মাঠের ধারে রাস্তার উপর থেকে শ্বাসনালী প্রায় কাটা অবস্থায় অর্ধমৃত যুবককে উদ্ধার করল পুলিশ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা আড়াইটে নাগাদ বাদুড়িয়ার কানুপুর হাজরাতলার লোকজন রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। ভয়ে তাঁরা কেউ ওই যুবকের কাছে ঘেঁষেননি। কেউ উদ্ধারেরও চেষ্টা করেননি। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। ওসি অনিল সাউয়ের উদ্যোগে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ গাড়ি করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই ওই যুবকের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ওই যুবকের নাম হাফিজুল বৈদ্য। তাঁর বয়স ৩২ বছর। হাফিজুলের বাড়ি বাদুড়িয়া থানার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে তাঁর গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে।
বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে বেলা দুটোর পরে ফাঁকা মাঠে কী ভাবে তিনি এলেন, তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন নাকি তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় খুনের চেষ্টা বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছে। ওই যুবকের পরিচয় জানার পরে ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে খবর দিয়েছে পুলিশ। হাফিজুলের পরিবারের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা বলেছে পুলিশ।
ওই ব্যক্তি ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন। এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা পুরনো কোনও শত্রুতার জেরে তাঁকে কে বা কারা হত্যা করার চেষ্টা করেছে। তাঁর জ্ঞান ফিরলে জবানবন্দি নেওয়ার পরে পুলিশ এনিয়ে তদন্ত শুরু করবে। আপাতত থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন অবশ্য তেমন কিছু জানাতে পারেননি পুলিশকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির শরীরে বেশ কয়েকটি ক্ষত রয়েছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তিনি ভীষণ ভাবে ‘ট্রমা’র মধ্যে রয়েছেন। অন্তত ৭২ ঘণ্টা না কাটলে তাঁর সম্বন্ধে কিছু বলা যাবে না। এখনও তাঁর সঙ্কট কাটেনি। এখনও পর্যন্ত তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ডাক্তাররা।