
শেষ আপডেট: 11 August 2020 13:48
এই খবর জানাজানি হতেই দৌত্য শুরু করে বিজেপি। বস্তুত, অনেকদিন ধরেই অনন্ত মহারাজ অসমে বিজেপি সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছেন। বাংলায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে। জানা যায়, অনন্ত ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব বৈঠক করে অভয় দেয়, বাংলায় এসে শাসকদলের সঙ্গে থাকলে পুলিশি বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না।
তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শুনেই অনন্ত মহারাজকে নিজেদের শিবিরে রাখতে তৎপরতা বাড়ায় গেরুয়া শিবির। ময়দানে নামেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এবং অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কোচবিহারের তৃণমূলের নেতাদের ধারণা ছিল, রবিবার রাতের মধ্যেই অসমের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকে পড়বেন গ্রেটার কোচবিহার নেতা। কিন্তু সোমবার বিকেল পর্যন্ত তিনি রাজ্যে না ফেরায় তৃণমূল এক রকম বুজে যায়, যাত্রাভঙ্গ হয়েছে মহারাজের। বাংলায় ফেরার বদলে অসমের ধুবড়ি থেকে চিরাং হয়ে অজানায় আস্তানায় চলে গিয়েছেন অনন্ত। এক নেত্রীও কোচবিহার থেকে তাঁর নতুন ঠিকানায় পৌঁছেছেন বলে খবর।
বিজেপির অভিযোগ, চেষ্টা করেও অনন্ত মহারাজকে দলে না পেয়ে পুলিশ লেলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে তৃণমূল। জলপাইগুড়ি শহরে সাংবাদিক বৈঠক করে মঙ্গলবার বিকালে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনন্ত মহারাজ শ্রদ্ধেয় নেতা। তিনি অনেক দিন ধরেই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাই যে ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে বিরোধীদের উপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে, কচবিহারে অনন্ত মহারাজের বাড়ি তল্লাশির নামেও তাই হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।”
তৃণমূলের নেতারা এ নিয়ে বাইরে মুখ না খুললেও ঘরোয়া আলোচনায় তাঁরা বলছেন, গুচ্ছ গুচ্ছ কেস রয়েছে অনন্ত মহারাজের নামে। পুলিশ তদন্তের জন্যই অভিযান চালিয়েছে। কেউই আইনের ঊর্দ্ধে নন।