দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লকডাউন উপেক্ষা করে গ্রামে একটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে ঢোলাহাট থানার শিমুলবেড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে গেল স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ, গ্রামবাসীরা বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করে পুলিশকর্মীদের তাতে আহত হয়েছেন অন্তত সাত জন পুলিশকর্মী। তাঁদের ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লকডাউনের দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিমুলবেড়িয়ায় সরকারি জমির উপরে স্থানীয় বেশ কয়েক জন বাসিন্দা একটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করতে যায়। এই জায়গায় শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে দিনটি ধর্মমতে শুভ হওয়ায় অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস হচ্ছে -- সেই একই কারণে বুধবার শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই উপলক্ষে সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় ঢোলাহাট থানার পুলিশ। তখন শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা উপলক্ষে ছশো থেকে সাতশো লোক জমে গেছে। লকডাউন চলায় পুলিশ শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে আপত্তি করে। তাছাড়া সরকারি জমিতে এসব করা নিয়েও আপত্তি তোলা হয় বলে সূত্রের খবর। তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। বচসা থেকে ব্যাপক ঝামেলা এবং তা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ, আধ ঘণ্টা মতো বচসা চলার পরে গ্রামবাসীরা হাতের কাছে যা পায় তা নিয়ে পুলিশের উপরে চড়াও হয়।
অভিযোগ, পুলিশকর্মীদের বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। পুলিশের দুটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। গ্রামের একমাত্র রাস্তা জুমাই নস্কর রোড আটকে দেয় গ্রামবাসীরা। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। এই ঘটনায় সাত জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন জনের আঘাত গুরুতর। একজন পুলিশ কনস্টেবল এবং এক জন এএসআই ছাড়াও একাধিক সিভিক ভলান্টিয়ারও আহতের তালিকায় রয়েছেন।
খবর যায় সুন্দরবন পুলিশ জেলার প্রধান কার্যালয়ে। খবর পেয়ে সুন্দরবন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। পুলিশ সুপার নিজে এবং ডিএসপি বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। সঙ্গে ছিল ব়্যাফ। ঘটনাস্থলে তাঁরা পৌঁছন প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পরে। ততক্ষণে অবশ্য গ্রামবাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এলাকা পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। পুলিশ এলাকায় টহল দিয়ে মোট ছ’জনকে আটক করেছে।
এলাকা এখনও থমথমে। ওই গ্রামে টহল দিচ্ছে ব়্যাফ। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।