দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তায় বেরোলেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বলে রাজ্য সরকার ঘোষণা করে দিলেও সেই নিয়ম একেবারেই মানতে দেখা গেল না কলকাতার উপকণ্ঠে সাপুরজি মার্কেটে। পুলিশকর্মীদের দেখে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই মাস্কে মুখ ঢাকলেন বটে তবে লোকজনের এমন অসচেতনতা দেখে বিরক্ত পুলিশ।
পুলিশ এদিন মাইকে করে বাজারে আসা মানুষজনকে সচেতন করেছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে যে নিয়ম না মানলে এবার গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে। বারবার সতর্ক করার পরেও নিয়ম ভেঙে উপহারসামগ্রীর দোকান খোলায় কয়েক দিন আগেই এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ।
বাজারে মঙ্গলবার নজরদারি করতে দেখা যায় টেকনো সিটি থানার পুলিশকর্মীদের। এখানে অধিকাংশ মানুষকেই দেখা যাচ্ছে যে একদিন অন্তর তাঁরা বাজারে আসছেন। কারণ জানতে চাইলে প্রত্যেই বলছেন যে রেফ্রিজারেটর খারাপ হয়ে গেছে তাই বাজার করতে আসতে হয়েছে। পয়লা বৈশাখে ভিড় বেশিই ছিল বাজারে। সেখানে লোকজন বলছেন যে বছরের প্রথম দিনে মাছ-মাংস না খেলে চলে!
যাঁরা মাস্ক ছাড়াই বাজারে চলে এসেছিলেন তাঁরা কেউ পুলিশ দেখে রুমালে মুখ ঢেকে নিয়েছেন কেউ আবার তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়েছেন। টেকনো সিটি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়ম করা হয়েছে যে সকাল ন'টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে। এই সময়ের বাইরে দোকান খোলা থাকলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
রবিবার জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য জায়গায় বেরোলেই মুখ-নাক ঢাকা বাধ্যতামূলক। মাস্ক না থাকলে ওড়না বা রুমালও ব্যবহার করা যাবে। মোদ্দা কথা, মুখ-নাক ঢেকেই রাস্তায় বেরোতে হবে।
রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সমস্ত রকমের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, মুখ-নাক ঢাকা থাকলে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম থাকে। সেই কারণেই এ ব্যাপারে আরও গুরুত্ব আরোপ করল রাজ্য।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরামর্শ দিয়েছিলেন, বাইরে বেরোলেই যেন সবাই মাস্ক পরেন। এমনকি বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতায় মোদী এও বলেন, ঘরে থাকলেও মুখে একটা কাপড় জড়িয়ে রাখুন। তাতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে।