দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও কিছুতেই যাদের মাস্ক পরার নিয়ম মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না এবার তাদের জন্য অন্য দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সিউড়ি এসপি মোড় এলাকায় মাস্ক না পরায় কান ধরে ওঠবোস করানো হল এক টোটো চালককে। হুগলির তারকেশ্বরে ২৫ জনকে আটক করে একই শাস্তি দিয়েছে পুলিশ। করোনা সংক্রমণ রুখতে এখন এই দাওয়াইয়ের সাহায্য নিতে শুরু করেছে প্রশাসন।
করোনা সংক্রমণ রুখতে বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বার বার মাস্ক পরে বেরোনোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য। সেই মর্মে জেলাজুড়ে প্রচারও চালানো হচ্ছে। তারপরেও অবশ্য খাস জেলা সদরেও মানুষের মধ্যে অসচেতনতার ছবি দেখা যাচ্ছে। সেই জন্য মঙ্গলবার সকালে সিউড়ির এসপি মোড় এবং হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চালান সিউড়ি সদরের মহকুমাশাসক রাজীব মণ্ডল।
সেখানে যাঁরা মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তাঁদের আটকানো হয় এবং মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করা হয়। সেই সময় এসপি মোড় এলাকায় এক টোটো চালক মাস্ক না পরায় তাঁকে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এখন এই অভিযান চলবে।
হুগলি জেলার তারকেশ্বরেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় থানার পুলিশ। সকালের দিকে পঁচিশ জনকে আটক করে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। কাউকে মাস্ক না পরে রাস্তায় বের হতে দেখলেই কান ধরে ওঠবোস করায়। গত কয়েক দিনে রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পিছিয়ে নেই হুগলি জেলাও। সোমবার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ১৫৪২ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৭৭ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। জেলায় করোনা অ্যাক্টিভের সংখ্যা ৪৭৪। করোনা করোনা সংক্রমণ রুখতে ফের কন্টেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করে লকডাউন চালু করেছে প্রশাসন। বীরভূম জেলার অবস্থা অবশ্য তুলনায় অনেক ভাল। এখানে মোট ৩৩৫ জন আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩০৮ জন। তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা অ্যাক্টিভের সংখ্যা ২৪।
রাজ্য সরকার মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করলেও সেই নিয়ম মানছেন না অনেকেই। তাই এখন স্থানীয় ভাবে কান ধরে ওঠবোস করানোর পন্থা নিয়েছে পুলিশ। এর আগেও একাধিক থানা এলাকায় পুলিশকে এই পন্থা নিতে দেখা গেছে।