দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল করা হবে। এ কথা অশোকনগরের বাসিন্দারা জানতে পেরে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ হাজির হন ওই হাসপাতালে। কয়েকশো লোকের জমায়েতের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় অশোকনগর থানার পুলিশ। তারা কোনও কথা না শুনেই হাসপাতাল চত্বর থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, প্রথমে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাঁদের সরে যাওয়ার জন্য বলে। পরে তারা লাঠিচার্জ করে জমায়েতকারীদের উপর। কোনও কথা না শুনে জোর করে তাঁদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষুব্ধদের জমায়েত ও পুলিশের হস্তক্ষেপে সোমবার দুপুরে উত্তেজনা তৈরি হয় অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে। জমায়েতকারীদের দাবি, হাসপাতালে সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা করতে হবে। এই হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতালে পরিবর্তিত করা যাবে না। তাঁদের যুক্তি, হাসপাতাল এলাকায় জনবসতি রয়েছে তাই এই দাবি। প্রতিবাদও সেই কারণেই।
অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার পুর প্রশাসক প্রবোধ সরকার এই ঘটনার খবর পেয়ে অশোকনগর হাসপাতালে এসে হাজির হন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, কোভিড হাসপাতাল করার কোনও নোটিস এখনও পর্যন্ত পুরসভা বা হাসপাতাল – কেউই পায়নি। তবে অশোকনগরে একটা কোভিড হাসপাতাল দরকার। এই এলাকায় দেড় লক্ষ মানুষের বাস। প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের বোঝানো হবে কেন এখানে হাসপাতাল গড়া দরকার।
রাজ্যে করোনা আক্রান্তের নিরিখে এখন কলকাতার ঠিক পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলার বিভিন্ন পুর এলাকায় কোথাও সম্পূর্ণ ও কোথাও আংশিক লকডাউন চলছে। কোথাও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ আলোচনা করে সপ্তাহের বিভিন্ন দিন বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার পরেও এই জেলায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। রাজ্য সরকারের শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৮৬ জন। ফলে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬,৩২৫। যদিও একই সময়ে ৫১৭ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় এখনও পর্যন্ত করোনাজয়ীর সংখ্যা ১০,৯০৮। জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬৮। বর্তমানে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৫,০৪৯ জন। তাই এই জেলা নিয়ে প্রথম থেকেই চিন্তায় প্রশাসন। রাজ্যে সপ্তাহে দুদিন করে লকডাউন চালু হওয়ার আগে থেকেই এই জেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউনের জন্য নবান্নে সুপারিশ গিয়েছিল।