দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিঙ্গলগঞ্জে ১০ এপ্রিল পরিকল্পনা করে খুনের অভিযোগে স্যান্ডেলবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়নাল আবেদিন গাজি-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গণপিটুনিতে খুনের পরে পুলিশ আগেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। তখনই নিহতের বাড়ির লোক অভিযোগ করেছিলেন পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতরাও জেরার মুখে উপপ্রধানের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইমামগঞ্জ কাটাখালি ভাটা এলাকা থেকে জয়নাল গাজি, সঞ্জু গাজি ও অন্য এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের বিরুদ্ধে খুন, অন্যায় ভাবে মোটর সাইকেল ভাঙচুর ও গ্রামবাসীদের উসকানি দিয়ে গণরোষ তৈরি করা-সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা শুরু হয়েছে। ধৃতরা তিন জনেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। বৃহস্পতিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এই ঘটনায় এপর্যন্ত মোট পাঁচ জন গ্রেফতার হল।
হিঙ্গলগঞ্জের ভেটকিয়াগ্রামে গণপিটুনিতে মৃত আশরাফের মা জাহানারা বিবি অভিযোগ করেন, উপপ্রধান জয়নাল গাজি পরিকল্পনা করে আশরাফকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলেন।
এপ্রিল মাসের দশ তারিখ গণপ্রহারে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিন জন। এই ঘটনার পরে স্যান্ডেলবিল গ্রামের উপপ্রধান জয়নাল আবেদিন গাজি জানান সকাল আটটা নাগাদ তিনি ত্রাণ বণ্টন করার জন্য তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেলে চেপে দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর ওপর হামলা করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। শুরু হয় গণধোলাই। তাদের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন সেখানে উপস্থিত লোকজন। হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে দুই ‘অভিযুক্ত’কে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরে দেখা যায় তিন জনকে গণপ্রহার করা হয়েছে। আক্রান্তদের বাড়ির লোকজন তখনই অভিযোগ করেন আবেদিন গাজি ও তার দলবল পরিকল্পিত ভাবে বাড়ি থেকে ডেকে এনে প্রথমে সৈয়দ গাজি নামে এক জনকে বেধড়ক মারধর করে। বাকি দু’জন নুরুল ইসলাম সরদার ও আশরাফ গাজিকে গাছে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই তাঁদের তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে আশরাফ গাজির মৃত্যু হয়। জয়নাল আবেদিন গাজি তখন বলেছিলেন পঞ্চায়েত ভোটের আগে ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাঁকে খুনের চেষ্টা করে আশরাফ। সেই রাগেরও প্রকাশ দেখা যায় গণপিটুনির সময়।
১০ এপ্রিলের ঘটনার জেরে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলের কাছে স্মারকলিপি দেন মৃত যুবকের পরিবারের লোকজন। অবিলম্বে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি করেন তাঁরা। পরে এই দাবিতে নিহতের পরিবারের লোকজন বিক্ষোভও দেখান। পরিকল্পনা করেই গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করতে থাকেন।
তদন্তে নেমে ২৮ দিনের মাথায় গণপ্রহারে হত্যার কিনারা করল পুলিশ।