দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের নিয়ম ভাঙায় পশ্চিম বর্ধমানে বৃহস্পতিবার ১৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় রাজ্য সরকার আপাতত সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই মতো বৃহস্পতিবার লকডাউন ছিল পুরো রাজ্যে। লকডাউন সফল করতে কঠোর মনোভাব নেয় পুলিশ।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে লকডাউন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রত্যেক থানাকে। এ সপ্তাহে শনিবারও লকডাউন সারা রাজ্যে। সেদিনও পুলিশ যে কড়া মনোভাবই দেখাতে চলেছে এদিন তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জেলায় লকডাউনের দিন বাদে অন্য দিনগুলিতে সকাল আটটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের দিন যাঁরা রাস্তায় বেরিয়েছেন পুলিশ তাঁদের বৈধ নথি দেখতে চেয়েছে। যাঁরা দেখাতে পারেননি তাঁদের জরিমানা করা হয়েছে। অনেককে আটকও করা হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানান হয়, সন্ধ্যা সাড়ে ছটা পর্যন্ত ১৩৪ জন লকডাউন ভঙ্গকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ দিন আসানসোল বাজারে বহু দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। পুলিশ প্রশাসন প্রথমে অনুরোধ করে দোকান বন্ধ করতে। যারা নির্দেশ মানেনি তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। কমব্যাট ফোর্স লাঠিচার্জ করে দোকান বন্ধ করে দেয়। জেলার সালানপুর ও কুলটি অঞ্চলে সমস্ত দোকান বন্ধ ছিল। রাস্তায় কোনও গাড়ি চলেনি।
এ দিন আসানসোল বাস স্ট্যান্ড থেকে কোনও বাস চলাচল করেনি। জিটি রোড সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। শহরের ভেতরের সব রাস্তাও মোটের উপরে ফাঁকাই ছিল। কুলটি, বরাকর, নিয়ামতপুর, জামুড়িয়া, বারাবনি ও বার্নপুরের সমস্ত দোকান এদিন বন্ধ ছিল। লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করে মোটরসাইকেল করে যাঁরা রাস্তায় বার হন তাঁদের থামিয়ে সকাল থেকেই পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। সীমানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া পাস থাকলে তবেই লোকজনকে যেতে দেওয়া হয়েছে।
মাইথন, রূপনারায়ণপুর ও ডুবুরডিহি সীমানায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছিল। খাবারের গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, কাঁচা আনাজের গাড়ি, পেট্রোপণ্যের গাড়ি প্রভৃতিতে অবশ্য এদিন ছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্য রাজ্যের কোনও গাড়ি এদিন জেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমানে এপর্যন্ত ৪৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন ২৩৭ জন। জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের। বর্তমানে করোনায় সংক্রামিতের সংখ্যা ২৩৭।