সুস্থ হয়ে ফিরুক দিব্যাংশ, ছেলেকে দাহ করে বললেন পুলকার দুর্ঘটনায় মৃত ঋষভের বাবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ফিরুক দিব্যাংশ – ছেলে ঋষভকে দাহ করার পরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পু এটুকুই বলতে পারলেন। নিজে কান্নায় ভেঙে পড়লেও সামলাতে হচ্ছিল বছর বারোর আয়ুষকে। কান্নায় ভেঙে পড়ে আ
শেষ আপডেট: 22 February 2020 10:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ফিরুক দিব্যাংশ – ছেলে ঋষভকে দাহ করার পরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পু এটুকুই বলতে পারলেন। নিজে কান্নায় ভেঙে পড়লেও সামলাতে হচ্ছিল বছর বারোর আয়ুষকে। কান্নায় ভেঙে পড়ে আয়ুষ তার বাবাকে শুধু একটা কথাই বলে চলেছিল, “ভাইকে এনে দাও... ভাইকে এনে দাও।” শিলিগুড়ির কনভেন্টে পড়া আয়ুষ মানতেই পারছিল না তার ছোট ভাই ঋষভ আর কোনও দিন তাকে দাদা বলে ডাকবে না।
১৪ ফেব্রুয়ারি হুগলির পোলবায় পুলকার দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল কাউন্সিলর সন্তোষ সিংয়ের ছেলে ঋষভ। ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। সদ্য শৈশব পার করা ঋষভ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছে, চিকিৎসকরা তার জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি। তবে শেষরক্ষা হল না। সকলের সব চেষ্টা থেমে যায় শুক্রবার গভীর রাতে।
আজ সকালেই ঋষভের ছোট্ট দেহটা এসে পৌঁছয় বাড়িতে। সেখান থেকে শ্রীরামপুরে কালীবাবু শ্মশানঘাট খুব বেশ হলে দেড় কিলোমিটার। রাস্তায় শোকার্ত মানুষের ঢল। সকলেই ধীরে ধীরে চলেছেন... ঋষভের পাশাপাশি। ঋষভের মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।
চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুলে পড়ত ঋষভ। সেই স্কুলের অধ্যক্ষা প্রদীপ্তা চট্টোপাধ্যায় ও অন্য শিক্ষিকারা এসেছিলেন ঋষভের শোকযাত্রায়। এসেছিলেন দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় নেতানেত্রীরা। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সব জানেন, পুলকার নিয়ে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।”
https://www.youtube.com/watch?v=rzH-iL_hvqQ
সন্তানশোকের ভার দুনিয়ার সব ভারের চেয়ে বেশি। সেই ভার সহ্য করতে পারছিলেন না পাপ্পু। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন মাঝেমধ্যেই। সেই অবস্থাতেই কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই... ওর বন্ধু যেন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরে।” বাড়িতে সারাক্ষণ সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন ঋষভের মা। তিনি হৃদরোগী, তার উপরে এই ক’দিনে শরীর-মন ভেঙে গেছে। তিনি একরকম বাহ্যজ্ঞান শূন্যই ছিলেন।
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পাপ্পু। সেই সূত্রে তিনি ঋষভকে খুবই স্নেহ করতেন। এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি ছিলেন।
ঋষভের পাড়ায় মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছায় ভোরে। আজ সেখানে কোনও দোকানপাট খোলেনি। এলাকার লোকজন এদিন প্রশ্ন তুলেছেন পুলকার মালিক ও চালকদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। আজ তাঁরা ফুঁসে উঠেছেন প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে। কোনও কিছুই আজ আর তাঁদের শোক ও ক্ষোভকে চাপা দিতে পারছিল না।
চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির এদিন বলেন, “পুলকার নিয়ে আমাদের নজরদারি হয়, তবে এবার তা আরও বাড়াতে হবে। আরও কড়া হতে হবে।”
ঋষভের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন দিব্যাংশের বাবা গোপীনাথ ভগত। তিনি বলেছেন, “ওরা দু’জনে একসঙ্গে ফিরলে ভাল হত।” ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলকার দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আঘাত লেগেছিল ঋষভ সিং ও দিব্যাংশ ভগতের। দিব্যাংশের অবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।