দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা তথা রথযাত্রা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। আইনজীবী রমাপ্রসাদ রায় বুধবার একটি মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার তার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। রথযাত্রা বের হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এই কথা বলে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী।
বিজেপি ইতিমধ্যেই রথযাত্রার সূচি ঘোষণা করেছে। সেই সূচি নবান্নে পাঠানো হয়েছে অনুমতির জন্যও। গেরুয়া শিবিরের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী প্রথম রথযাত্রাটি শুরু হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। প্রভু চৈতন্যের ভিটে নবদ্বীপ ধাম থেকে শুরু হয়ে তা শেষ হবে ব্যারাকপুরে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ ঘুরবে এই রথটি। তারপর ৮ ফেব্রুয়ারি দুটি রথযাত্রা শুরু হবে রাজ্যের দুটি জায়গা থেকে। একটি কোচবিহারে শুরু হয়ে শেষ হবে মালদহে। গোটা উত্তরবঙ্গ কভার করবে এই রথযাত্রা। ওইদিন কাকদ্বীপ থেকে আরও একটি রথযাত্রা শুরু হবে। যা শেষ হবে কলকাতায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা জুড়ে ঘুরবে এই রথযাত্রা। ৯ ফেব্রুয়ারিও দুটি রথযাত্রা শুরু হবে। একটি ঝাড়গ্রাম থেকে বেলুড় অন্যটি তারাপীঠ থেকে পুরুলিয়া। গতকাল বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ৬ ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপ থেকে যে রথযাত্রা শুরুর কথা তা উদ্বোধন করতে বাংলায় আসবেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
লোকসভা ভোটের আগেও রথযাত্রা করার চেষ্টা করেছিল বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু পুলিশ অনুমোদন না দেওয়ায় শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় দিলীপ ঘোষদের। তবে সেই মামলায় রাজ্যের তরফে বলা হয়, গোয়েন্দা সূত্রে রাজ্য প্রশাসনের কাছে ইনপুট রয়েছে, এই রথযাত্রা বেরোলে বিভিন্ন মিশ্র এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত সেবার রথযাত্রা বাতিল করে দিয়েছিল।
এদিন আদালতে রথযাত্রা নিয়ে মামলা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “আদালত কী করবে সেটা আদালতের বিষয়। তবে যিনি রথযাত্রার কাণ্ডারী সেই লালকৃষ্ণ আডবাণীকেই বিজেপি সাইডলাইনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, আটের দশকের শেষ পর্যায়ে এই রথযাত্রার মাধ্যমেই দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির নাম। রামজন্মভূমি আন্দোলনকে সামনে রেখে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর যোশীদের সেই রথযাত্রা ভারতের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ঘটনা।