বিজেপি যে ভাষায় কথা বলে, জঙ্গলের লোকেও বলে না : পার্থ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথযাত্রা মামলা নিয়ে অবশেষে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয় রথযাত্রার। খারিজ হয়ে যায় রাজ্যের তরফে স্থগিতাদেশের আবেদন।
এই রায়ের পরেই সুর চড়ায়
শেষ আপডেট: 20 December 2018 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথযাত্রা মামলা নিয়ে অবশেষে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয় রথযাত্রার। খারিজ হয়ে যায় রাজ্যের তরফে স্থগিতাদেশের আবেদন।
এই রায়ের পরেই সুর চড়ায় বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই রায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের গালে বড় থাপ্পড় পড়ল। আদালত যে সব শর্ত দিয়েছে, তা গোড়া থেকেই মানতে রাজি ছিল বিজেপি। কিন্তু ছুতোয়নাতায় অগণতান্ত্রিক ভাবে রথযাত্রায় বাধা দিচ্ছিল সরকার। মহামান্য বিচারপতিরাও তা বুঝতে পেরেছেন।”
দিলীপ ঘোষের মতই রায় ঘোষণার পর বিজেপি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, “বিজেপি-র রথযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। তাকে রাজনৈতিক যাত্রাও বলা যেতে পারে। বাংলায় যে গণতন্ত্র নেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের স্বৈরাচারী শাসন চলছে তা নিয়ে মানুষের জ্ঞান-চোখ খুলে দিতেই উত্তর থেকে দক্ষিণে রথ নিয়ে বেরোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বিজেপি-ও চায় যে যাত্রা শান্তিপূর্ণ হোক।”
এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, " সমস্তটা না জেনে হাইকোর্টের ব্যাপারে কী মন্তব্য করবো? দিলীপ ঘোষদের পক্ষে তো জনগন নেই। তাই ওরা জঙ্গলের বাক্য বলে মানুষদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি যে ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষায় জঙ্গলের লোকেরাও কথা বলে না। বিজেপির রাজত্ব জঙ্গলের থেকেও খারাপ। এরা ভালো কে খারাপ করছে।"
https://www.youtube.com/watch?v=nA-T_g1DRLI
হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলায় কোনও প্রভাব পড়বে কিনা সে প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, " প্রতিদিনই তো আইনশৃঙ্খলা অবনতি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এদের যা ভাষা, কোনও সভ্য সমাজে বলা যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়ন করছেন, কেউ তা ব্যহত করার চেষ্টা করলে শক্ত হাতে তার মোকাবিলা করা হবে। "
তবে রাজ্য যে এত সহজে হাল ছেড়ে দেব না, তা বোঝা যায় হাইকোর্টের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী কাল সকাল সাড়ে দশটায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর রায় কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে র দৃষ্টি আকর্ষন করবেন। যাতে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের ওপর স্থগিতদেশ দেয় আদালত। সেই ব্যাপারেই আজ সন্ধ্যে ৭টায় প্রধান বিচারপতির চেম্বারে দেখা করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল।