দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের কারণে চেনা কলকাতার ছবি উধাও হয়েছে দু'মাসের বেশি সময় হল। লোক নেই, জন নেই, ট্রাফিক সিগনালে জ্যাম নেই। কিন্তু উত্তর কলকাতার তৃণমূলের কোন্দলের ছবিটা পাল্টাল না। ফিরে এল পরেশ পাল বনাম সাধন পাণ্ডের রাস্তার ঝগড়া! এই লকডাউনের মধ্যেই।
মন্ত্রী সাধন পাণ্ডেকে দল থেকে তাড়ানোর দাবি তুলে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল। হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, "লকডাউন চলছে বলে পারছি না। লকডাউন উঠলেই ১৫ হাজার লোক নিয়ে রাস্তায় নামব। ওঁকে (পড়ুন সাধন পাণ্ডেকে) দল থেকে তাড়াতে হবে।
দুদিন আগেই কলকাতার প্রশাসক তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনার সুর চড়িয়েছিলেন সাধন। উমফান পরবর্তীতে শহরের যে লন্ডভন্ড অবস্থা তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বলেছিলেন, পুরসভার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ফিরহাদ হাকিম কারও পরামর্শ নেননি বলেও তোপ দেগেছিলেন মানিকতলার বিধায়ক। তা নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পর্যন্ত টুইট করে লেখেন, রাজ্যের দুই বরিষ্ঠ মন্ত্রী যে ভাবে প্রকাশ্যে বিতন্ডা করছেন তা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কী!
সাধনের ওই বক্তব্য নিয়ে আন্দোলিত হয়েছে তৃণমূলও। দলের তরফে বর্ষীয়ান বিধায়ককে শোকজ করা হয়েছে। আর এই সুযোগে ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যত খড়্গহস্তে নামলেন পরেশ।
এমনিতেই সাধনবাবুর ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে পরেশবাবু মণিমুক্ত ছড়ান। দু'বছর আগে তো একবার সাধনবাবুকে লম্পট, জানোয়ার বলেও আক্রমণ করেছিলেন বেলেঘাটর বিধায়ক। এদিনও ঝাঁঝ ছিল তেমন। রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পরেশের অভিযোগ, নিজের মেয়েকে সিবিআই, ইডির হাত থেকে বাঁচাতে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে তৃণমূলের ক্ষতি করছেন সাধন। প্রসঙ্গত, রোজভ্যালি মামলায় একাধিকবার ইডি তলব করেছিল সাধন কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডেকে। টলিউডের বহু প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শ্রেয়া সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দিয়েছেন। তবে এদিন প্রতিক্রিয়া জানতে সাধন পাণ্ডেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে মন্ত্রী নাকি বলেছেন, তিনি কোনও শোকজ চিঠি পাননি।
পরেশবাবু এদিন আরও বলেন, "ও তো রাস্তায় ছবি তুলতে নেমেছিল। যাকে ধরতে চারটে লোক লাগে সে আবার করাত দিয়ে গাছ কাটছে!" আগের দিন সাধনবাবু সিইএসসির সমালোচনা করে বলেছিলেন, কেন কলকাতায় বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ের দুটো কোম্পানি থাকবে না? বম্বেতে তো দুটো আছে। এখানে তো টাটার মতো কোম্পানিকে ডাকতে পারে। তাহলে তো প্রতিযোগিতা হয়!" সেই প্রসঙ্গে সাধনকে টাটার দালাল বলে মন্তব্য করেন পরেশ। তাঁর কথায়, "ও টাটার দালাল। টাটার সঙ্গে ওর ব্যবসা আছে। সিঙ্গুরের সময়েও দালালি করেছিল।"
শশী পাঁজা, অতীন ঘোষ, সাংসদ শান্তনু সেন-সহ একাধিক নেতার নাম করে পরেশ বলেন, "এঁদের সবার সঙ্গে ওঁর গণ্ডগোল। কাঠি করা ছাড়া ও কিচ্ছু জানে না। পিছনে লেগে লেগে ও অজিত পাঁজাকে মেরে ফেলেছে!" এখানেই থামেননি বেলেঘাটার বিধায়ক। তাঁর কথায়, "ও যখন কংগ্রেস করত তখনও এর তার পিছনে লাগত। কখনও বরকতদা (পড়ুন প্রয়াত প্রাক্তন রেলমন্ত্রী আবু বরকত গনিখান চৌধুরী), কখনও প্রণব মুখোপাধ্যায়, কখনও সোমেন মিত্র, এমনকি কাজের মানুষ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পিছনেও লাগতে ছাড়েনি।"
প্রসঙ্গত সাধন-পরেশ দ্বন্দ্ব বহুদিনের। কলকাতার রাজনীতিতে একাধিকবার এলাকা দখল ঘিরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষও নতুন নয়। শুধু পরেশ পাল নয়। সাধন পাণ্ডের সঙ্গে শ্যামপুকুরের বিধায়ক তথা অজিত পাঁজার পুত্রবধূ শশী পাঁজার দ্বন্দ্বও সকলের জানা। শাসক দলের একটি অংশের মতে, অজিত পাঁজা জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর সঙ্গেও দ্বন্দ্ব ছিল সাধনের। এখন তাঁর পুত্রবধূর সঙ্গেও কাজিয়া। এবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে কালীঘাটের চাপে পড়তেই সাধনের বিরুদ্ধে ফোঁস করে উঠলেন পরেশ।