দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া একমাত্র ছেলেকে ফিরে পেল তার পরিবার। ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। বর্তমানে তাঁরা থাকেন নদিয়ার জাগুলিয়া এলাকায়।
বুধবার সকালে চোংদা মোড় সংলগ্ন প্রতাপনগর প্রগতি সঙ্ঘ ক্লাবের মাঠে এক যুবককে ইতস্তত ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর নাম জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কিছুই বলতে পারছিলেন না। তখন তাঁরা ওই যুবকের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সারাদিন ধরেই তাঁকে খাওয়াদাওয়া করান। ওই যুবক পরে ধীরে ধীরে নিজের নাম ও আংশিক ভাবে বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন যুবক।
ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা গোবরডাঙা থানার কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার গোবিন্দনাথ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আবার বিভিন্ন থানায় কর্মরত সিভিক বন্ধুদের নিয়ে তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছেলেটির ছবি এবং নাম-ঠিকানা দিয়ে দেন। ওই যুবকের নাম পার্থ দাস, বয়স ২৮ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর বাড়ি নদিয়া জেলার গাংনাপুরে। তবে পারিবারিক কারণে বর্তমানে তাঁরা হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত বিরোহী বাজার এলাকায় শানু বৈরাগী নামে এক জনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। যুবকের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে বুধবার রাতেই তাঁর বাবা ও মা এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে ছেলেকে নিতে আসেন প্রতাপনগর এলাকায়। পার্থকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা বাবা এবং মা।
সোমবার দুপুরবেলা বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে পাড়ায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন পার্থ। তারপর থেকে আর বাড়িতে ফেরেনি। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে হরিণঘাটা থানার অধীন জাগুলিয়া ফাঁড়িতে একটি নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় আত্মীয়-পরিজনদের কাছেও খোঁজখবর নেওয়া হয় কিন্তু কোথাও কোনও ভাবেই সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যুবকের বাবা আনন্দমোহন দাস ও মা পূরবী দাস।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বছর আটেক আগে দেখাশোনা করে গাংনাপুর এলাকায় প্রতিবেশী এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় পার্থর। তাঁদের বছর সাতেকের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তান জন্মের এক বছর পর স্বামীকে ছেড়ে কন্যা সন্তানকে নিয়ে অন্য এক জনের সঙ্গে চলে যান পার্থর স্ত্রী। তারপর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন পেশায় ফেরিওয়ালা পার্থ। বর্তমানে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন তাই সারাদিন বাড়িতেই থাকতেন।
আনন্দমোহন দাস হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। রোজগার সামান্য হলেও তার মধ্যেই সংসারের খরচ সামলে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখন লকডাউন চলায় কাজ বন্ধ। রোজগার নেই। সংসার চালাবেন কী ভাবে আর কী করেই যে ছেলের চিকিৎসা করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তিনি। তার মধ্যেই আবার ছেলে হারিয়ে যায়। ছেলেকে ফিরে পেয়ে তাঁরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। ধন্যবাদ দেন প্রতাপনগর এলাকার বাসিন্দা ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের।